পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে দফতরে দফতরে ঘুরছেন নাছিমা
রাজবাড়ীতে পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন নাছিমা বেগম (৩৫) নামে এক নারী। ৩৫ বছর পর পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইতোমধ্যে মানববন্ধন করেছেন নাছিমা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তিনি।
পিতৃত্বের স্বীকৃতি না পাওয়া এবং মারধরের ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও মামলা করেছেন নাছিমা।
নাছিমা বেগম নওগাঁ সদর উপজেলার আব্দুল মজিদের স্ত্রী। তিনি চার সন্তানের জননী।
নাছিমার অভিযোগ, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের পাঁচটিকরী গ্রামের জিয়াউর রহমান ওরফে জিরু মোল্লার বাড়িতে প্রায় ৪০ বছর আগে তার মা আছিয়া বেগম গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। এ সময় নানা প্রলোভনে জিরু মোল্লা তার মাকে বিয়ে করেন বলে দাবি নাছিমার। তবে ওই বিয়ের লিখিত কোনো স্বীকৃতি ছিল না।
একপর্যায়ে তার মা গর্ভবতী হন এবং নাছিমার জন্ম হয়। নাছিমার দাবি, সামাজিক অবস্থানের কারণে জিরু মোল্লা তার মা ও তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর অন্যের বাড়িতে কাজ করে আছিয়া বেগম মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করেন।
নাছিমা জানান, বড় হওয়ার পর মায়ের কাছ থেকে নিজের জন্মপরিচয় জানতে পারেন তিনি। দীর্ঘদিন পর পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চাইতে জিরু মোল্লার বাড়িতে গেলে তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে পুনরায় স্বীকৃতি চাইতে গেলে জিরু মোল্লা, তার দ্বিতীয় স্ত্রী লিমা বেগম, ভাতিজা পনি মোল্লা ও জনি মোল্লা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
নাছিমার আরও অভিযোগ, ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম ও ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একই গ্রামের তার নানাবাড়িতে যান। সেখানে তাকে ঘিরে মারধরের উদ্যোগ নিলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন। এ সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নাছিমা এ ঘটনায় আদালতের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন। এর আগে গত ১০ অক্টোবর পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি চেয়ে কালুখালী উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দেন তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জিয়াউর রহমান ওরফে জিরু মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: