• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

‘আমাকে বল দেন, আমি খেলা বদলে দেব’

প্রকাশিত: ১০:২৬, ১৯ মার্চ ২০২২

আপডেট: ১০:২৭, ১৯ মার্চ ২০২২

ফন্ট সাইজ
‘আমাকে বল দেন, আমি খেলা বদলে দেব’

ছবি সংগৃহিত

শেষ ১১ ওভারে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ১১৫ রান। ক্রিজে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী রূপে ছিলেন ডেভিড মিলার। ৩৯ বলে ৫১ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি। এ প্রোটিয়া হার্ডহিটারকে কী করে থামাবেন সেই চিন্তায় মাথা চুলকাচ্ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তখন আত্মবিশ্বাসী  মিরাজ এসে বললো, আমাকে বল দেন, আমি খেলা বদলে দেব।   

শরিফুল ইসলামের চোটের কারণে বোলিং করতে পারছিলেন না। বাকি অস্ত্র তো সব ব্যবহার করে ফেলেছেন, শুধু স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বেশি ওভার বাকি ছিল। কারণ মিরাজ প্রথম ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে কোনো সফল্য পায়নি। যে কারণে মিরাজকে বিরতিতে রেখে বাকিদের দিয়ে বোলিং করান তামিম। কিন্তু ৪০তম ওভারের বোলিংয়ে আনতে তামিমকে অনুরোধ করেন মিরাজ নিজেই। একই সঙ্গে ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় মিরাজ।

শেষপর্যন্ত মিরাজের হাতেই বল তুলে দিলেন তামিম। আর তার স্পিন ঘূর্ণিতে প্রথম ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পাওয়া সেই মিরাজেই  কুপোকাত করে দেয় প্রোটিয়াদের। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ৫ ওভার বল করে মাত্র ২৭ রান দিয়ে বিধ্বংসী মিলারসহ ৪ উইকেট শিকার করেন নেয় মিরাজ।

মিরাজের এমন দুর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে প্রথমবার কোনো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ দল।

ম্যাচ শেষে মিরাজের ভূয়সী প্রশংসা করে অধিনায়ক তামিম বলেন, ‘সব দলে মিরাজের মতো ক্যারেক্টার প্রয়োজন আছে। কারণ, প্রথম ৪ ওভারে ৩৪ রান দেওয়ার পর সে আমার কাছে এসে বলে, আমাকে বল দেন, আমি খেলা বদলে দেব। সে খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিল। এটি অধিনায়কের কাজ সহজ করে দেয়, যখন আপনার খেলোয়াড়রা নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাসী থাকে। সবসময় হয়তো ফল আমাদের পক্ষে আসবে না, কখনো কখনো আমাদের বিপক্ষেও যেতে পারে। তবে আমি খুব খুশি যে আত্মবিশ্বাসটা তার মধ্যে আছে। এমন চাপের মধ্যে ডানহাতির সামনে ছোট বাউন্ডারিতে বোলিং করা, উইকেট এনে দেওয়া, আমার মতে, সেও আমার ম্যান অব দ্য ম্যাচ।’

মিরাজের এমন দিনে নবাগত ইয়াসিরের প্রশংসা করতেও ভুলেননি তামিম।  বললেন, ‘ছেলেদের নিয়ে অনেক গর্বিত, সবাই যেভাবে খেলেছে। শুরুতে লিটন ও আমি ভালো একটা ভিত গড়ে দিয়েছি। সাকিব ও ইয়াসির অবিশ্বাস্য খেলেছে। আমার মতে, ইয়াসিরের ইনিংস স্পেশাল ছিল। যেভাবে সে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের সামলেছে। শেষে মিরাজের দুই ছক্কা, আফিফের একটি করে চার-ছক্কা, রিয়াদ ভাইয়ের ২৫ রান সবকিছুই গুরুত্ব বহন করে। 

ঐতিহাসিক এই জয়ের বিষয়ে তামিম বলেন, অবশ্যই এটি আমাদের জন্য অনেক বড় জয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় (দ্বিপাক্ষিক সিরিজে) আগে কখনও আমরা জিতিনি, তাই এটি বিশেষ জয়।’

বিভি/এইচএস

মন্তব্য করুন: