কোচিং ছাড়াই ঢাবি ও জবিতে চান্স পেলেন কৃষক পরিবারের ছেলে ইউসুফ
নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম যে দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আল ইউসুফ। কোনো ধরনের কোচিং ছাড়াই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
আল ইউসুফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২৯৯তম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২তম স্থান অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া সিরাজপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
আল ইউসুফ ভুরুলিয়া ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুল কাদের মিস্ত্রির ছেলে। সীমিত আয় ও উপকূলীয় এলাকার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবারের সহায়তা ও নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। বড় শহরে গিয়ে কোচিং করার সুযোগ না থাকলেও পাঠ্যবই-নির্ভর নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমেই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি।
আল ইউসুফের এই সাফল্যে এলাকায় আনন্দ বইছে। তার শিক্ষকরা জানান, তিনি শুরু থেকেই বিনয়ী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী ছিলেন। আধুনিক শিক্ষা সুবিধার অভাব সত্ত্বেও পাঠ্যবইয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আল ইউসুফ বলেন, নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং সর্বোপরি বাবা-মায়ের দোয়াই আমার সাফল্যের মূল কারণ। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই।
ছেলের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তার বাবা কৃষক আব্দুল কাদের মিস্ত্রি বলেন, আমি একজন কৃষক মানুষ। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি। আজ তার এই অর্জনে সব কষ্ট সার্থক হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলের এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: