• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

মেয়ের চর্মরোগ সারাতে এক মায়ের সাবান আবিষ্কার, অতঃপর...

খলিল সিকদার, ‎রূপগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭:১০, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মেয়ের চর্মরোগ সারাতে এক মায়ের সাবান আবিষ্কার, অতঃপর...

‎‎একজন মা, একটি পারিবারিক অভিজ্ঞতা আর সেখান থেকেই নতুন কিছু করার স্বপ্ন। ‎একসময় মেয়ের চর্মরোগের সমস্যা নিয়ে নানা জায়গায় ছুটেছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে ভাবিয়েছে, নতুন কিছু করার। আর সেই ভাবনা থেকেই শুরু সাবান তৈরির কাজ। ছোট্ট পরিসরে শুরু করা উদ্যোগ এখন ধীরে ধীরে পরিচিতি পাচ্ছে। বলছি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভোলাব ইউনিয়নের অতলাপুর গ্রামের নারী উদ্যোক্তা রাশিদা বেগমের কথা।

‎প্রতিটি উদ্যোগের পেছনেই থাকে কোনো না কোনো গল্প। রাশিদা বেগমের গল্পটি শুরু হয়েছিল মেয়েকে ঘিরে। মেয়ের শরীরে চর্মরোগের সমস্যার জন্য চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। তবে প্রত্যাশিত সমাধান না পেয়ে একপর্যায়ে বাড়ির মালিকের পরামর্শে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ বেটে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে সমস্যা লাঘব হয়ে ধীরে ধীরে উন্নতি হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মনে প্রশ্ন জাগে—নিমপাতা আর কাঁচা হলুদ দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা যায় কি না। এরপর শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ধীরে ধীরে ঘরেই তৈরি করতে থাকেন নিজের হাতে বানানো সাবান।

‎শুধু একটি পণ্য তৈরি নয়, নিজের হাতে গড়ে তুলেছেন স্বপ্নের একটি উদ্যোগ। নারকেল তেল, পামওয়েল, নিজ হাতে তৈরি বিশেষ তেল, কাঁচা হলুদ ও দেশি নিমপাতাসহ বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি করছেন ‘নাফিহা সাবান’। অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই চলছে বিক্রি। ক্রেতাদের কাছ থেকে পাচ্ছেন প্রশংসাও। 
‎
তবে এখনো শেষ হয়নি সব প্রক্রিয়া। প্রয়োজনীয় সরকারি নিবন্ধন ও পণ্যের মান যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। তার স্বপ্ন, এই উদ্যোগ একদিন আরও বড় হবে, তার সঙ্গে যুক্ত হবেন এলাকার অনেক কর্মপ্রত্যাশী নারী।
‎
‎একজন নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নের সঙ্গে যখন যুক্ত হয় আরও কয়েকজন নারীর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা, তখন সেই উদ্যোগ হয়ে ওঠে আরও গুরুত্বপূর্ণ। রাশিদা বেগমের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন পণ্যের মান যাচাই, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও সরকারি সহযোগিতা। এ বিষয়ে উদ্যোক্তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন ‎রূপগঞ্জের ‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিক।

‎একজন মায়ের অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া একটি ছোট্ট উদ্যোগ। সেই উদ্যোগকে ঘিরেই এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন রাশিদা বেগম। তবে তার স্বপ্ন শুধু নিজের সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি চান তার হাত ধরে এগিয়ে আসুক আরও অনেক নারী। হয়তো একদিন রূপগঞ্জের এই ছোট্ট উদ্যোগই হয়ে উঠবে অনেক নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন ঠিকানা।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: