• সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

BVNEWS24 || বিভিনিউজ২৪

পর্যটনে মাস্টার প্ল্যান, বদলে যাবে সামগ্রিক চিত্র

প্রকাশিত: ২২:৪২, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

আপডেট: ১৭:৫৭, ১১ অক্টোবর ২০২১

ফন্ট সাইজ
পর্যটনে মাস্টার প্ল্যান, বদলে যাবে সামগ্রিক চিত্র

ছবি- সংগৃহীত।

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ। দিবসটি উদযাপনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’ প্রতিপাদ্যে পালিত হচ্ছে এবারের আয়োজন। 

করোনার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, কোয়ারেন্টিন এবং ভ্যাকসিন স্বল্পতায় মুখ থুবড়ে পড়ে পর্যটন খাত। বন্ধ হয়ে যায় হোটেল মোটেল ও রেস্তোরাঁ। ফলে পেশা পরিবর্তন করেন এই খাতের অনেকেই।

ঝিমিয়ে পড়া এই খাঁতে সুদিন ফেরাতে দেশে নতুন পর্যটন কেন্দ্র খুঁজে বের করা এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে একটি মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এইসব কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো দেখে পর্যটনের উন্নয়ন এবং নতুন পর্যটন কেন্দ্র চিহ্নিত করা, পর্যটকদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা সহজ করা এবং ভিসার ব্যাপারে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোড় দিয়েছে সরকার।

পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন-এর দেওয়া তথ্যমতে, পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে দেড় হাজার কোটি টাকার ঘোষিত প্রণোদনা বিতরণের কাজ চলছে এছাড়াও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের এসএমই ঋণ ও প্রদান করবে সরকার। তিন ধাপে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গৃহীত মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে পর্যটনে সুদিন ফিরবে বলে মনে করেন তিনি। 

পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দেশের জিডিপিতে পর্যটনের অবদান ২ শতাংশ; যা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে গৃহীত মহাপরিকল্পনাটির দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরী।

সূত্র বলছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ক্রয়সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন পায়। ওই বছর ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীও অনুমোদন দেন মহাপরিকল্পনায়। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইপিই গ্লোবাল লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চুক্তি হয়। ভ্যাট ও এআইটিসহ চুক্তিমূল্য  প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। আঠার মাসে মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও করোনার দাপটে থমকে যায় প্রকল্পের কাজ। পরে কিছু সংশোধনীসহ ২০২০ সালের ১১ নভেম্বরে পুনরায় অনুমোদন দেয়া প্রকল্পটি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন চেয়ারম্যান মো. হান্নান মিয়া বাংলাভিশন ডিজিটালকে বলেন, করোনার সময় বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পোষাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ কমে আসায় স্বাস্থ্য-বিধি মেনে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া প্রসংগে তিনি বলেন, হোটেল-মোটেলগুলোতে স্বাস্থ্য-বিধি মেনে ধারণ ক্ষমতার ৫০ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখতে হয়। এছাড়া আমরা হোটেল-মোটেলে খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে রুম সার্ভিসকে উৎসাহিত করছি। এছাড়া, টুরিস্ট স্পটগুলোতে প্রচারণার মাধ্যমে কোভিড বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্পোরেশন। নিঝুম দ্বীপও ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সূত্র বলছে, গৃহীত মহাপরিকল্পনাটির প্রথম ধাপে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, সংকট, দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে দ্বিতীয় ধাপে পর্যটনের লক্ষ্য, পদক্ষেপ, কৌশলগত লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও যোগাযোগের ক্ষেত্র নির্ধারণ করে উন্নয়ন, প্রমোশন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তারপর পর্যটন পণ্যের উন্নয়ন, অর্থায়ন ও বিনিয়োগের কৌশল এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করা হবে।

বিভি/এমএস

মন্তব্য করুন: