• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়াচ্ছে চীন, উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন সেতু

প্রকাশিত: ১০:৫৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১০:৫৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়াচ্ছে চীন, উদ্বোধনের অপেক্ষায় নতুন সেতু

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত সেতু। দীর্ঘদিন অসমাপ্ত থাকার পর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে এই যোগাযোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে সেতুটি চালুর এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে চীন ২০১৪ সালে সেতুটির নিজ অংশের নির্মাণকাজ শেষ করে। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপে বেইজিংয়ের সমর্থন দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করে। এর জেরে উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন সেতুটির নিজ অংশের নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রাখে।

এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী প্রথম সেতুটিও চালু হয়েছে। ফলে প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

গত বছর উত্তর কোরিয়ায় চীনের রপ্তানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। আগের বছরের তুলনায় এই রপ্তানি বেড়েছে ২৫ শতাংশ। গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো পিয়ংইয়ং সফর করেন। এ সময় তাকে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতারা।

২০১৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বেইজিং। একই সময়ে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কেও সাময়িক উন্নতির লক্ষণ দেখা গিয়েছিল।

কোরীয় যুদ্ধের সময় চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়। ১৯৬১ সালে দেশ দুটি ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চীনের একমাত্র আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট হিসেবে চুক্তিটি এখনো বহাল রয়েছে। এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশ সশস্ত্র হামলার শিকার হলে অন্য দেশকে সহায়তা করার অঙ্গীকার রয়েছে চুক্তিতে।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান কূটনৈতিক অংশীদার ও নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা ছিল চীন। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির কারণে ২০১৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপে বেইজিং সমর্থন দেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় দেশটির কূটনৈতিক নির্ভরতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে চীনের ওপর পিয়ংইয়ংয়ের নির্ভরতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার বিধানও রয়েছে। চুক্তির পর থেকে দেশ দুটির সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গত মাসে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ২০১৯ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার আলোচনা আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে কিমের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নির্ধারিত হয়নি।

তবে চীনা নাগরিকদের জন্য উত্তর কোরিয়া এখনো পর্যটন ভিসা দেওয়া পুনরায় শুরু করেনি। একসময় উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি পর্যটকদের বড় অংশই ছিলেন চীনা নাগরিক।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় অংশ সামরিক সরঞ্জামকেন্দ্রিক। অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে এমন পণ্য ও উপকরণ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা উত্তর কোরিয়ার বেসামরিক অর্থনীতির উন্নয়নে প্রয়োজন। ফলে নতুন ইয়ালু নদী সেতু চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত