• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর নির্ভর করেও হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব

প্রকাশিত: ১২:১৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১২:১৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর নির্ভর করেও হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব

ইরানকে ঠেকাতে শত শত কোটি ডলারের আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এবার সেই একই মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর নির্ভর করেও ইয়েমেনের হুথিদের হামলা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলায় ঝুঁকিতে পড়ছে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো। প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বের অন্যতম বড় সামরিক বাজেট থাকা সত্ত্বেও সৌদির আকাশসীমা কেন নিরাপদ নয়? নাকি আধুনিক অস্ত্রের দম্ভের আড়ালে প্রকাশ পাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা?

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, বিমানবন্দর, বিমানঘাঁটি আর তেল স্থাপনা সব কিছুই নিশানায় ইরান সমর্থিত হুথিদের। হুথিদের দেশীয় প্রযুক্তির মিসাইল আর ড্রোন হামলা ঠেকাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র আর অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা সৌদি আরব। প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ৮৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় সৌদি আরবের। 

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—কোনোটিরই কমতি নেই দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে। তবু ইয়েমেনের হুথিদের হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না রিয়াদ। রিয়াদের এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, এতো বছর মার্কিন অস্ত্রে বিনিয়োগ করে আদৌ কি লাভ হয়েছে সৌদির? আধুনিক অস্ত্রের দম্ভের আড়ালে কি প্রকাশ পাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা? 

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন অস্ত্র রপ্তানির ১২ শতাংশই গেছে সৌদি আরবে। সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষার অন্যতম ভরসা মার্কিন প্যাট্রিয়ট মিসাইল। শত্রুর ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয় এই ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি রয়েছে থাড—টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স। 

আর সৌদির বিমানবাহিনীর কাছে রয়েছে মার্কিন দম্ভ এফ- ফিফটিন যুদ্ধবিমান। এমনকি ২০২৬ সালে সৌদি আরবের জন্য ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কেনার প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির কথাও সামনে এসেছে। তাহলে কি কৌশলে সৌদির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিচ্ছে ইরানের সমর্থন আর কৌশল রপ্ত করা হুথিরা?

বিশ্লেষকদের মতে,  হুথিরা সৌদির পরীক্ষা নিতে ব্যবহার করছে ইরান ও আমেরিকা যুদ্ধের কৌশল। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইলের সাথে হামলা চালাচ্ছে দূরপাল্লার ড্রোন। একসাথে বিভিন্ন দিক থেকে হামলা চালিয়ে চাপ তৈরি করছে সৌদির প্রতিরক্ষাব্যবস্থায়। ব্যালিস্টিক আর ক্রুজ মিসাইল হামলা ঠেকাতে রিয়াদকে নির্ভর করতে হয় প্যাট্রিয়ট আর থাডের ওপর। প্রতিটি হামলা প্রতিহত করতে ছুড়তে হয় পাল্টা মিসাইল; আর এই প্যাট্রিয়ট ব্যয়বহুল এবং মজুতও সীমাহীন নয়।

এর সঙ্গে রয়েছে সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড। বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি, পাইপলাইন, পানি শোধনাগার—সব স্থাপনা একসঙ্গে সুরক্ষিত রাখা কঠিন। একটি স্থাপনায় প্রতিরক্ষা জোরদার করলে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তুলনামূলকভাবে অরক্ষিত থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে সৌদিকে নাজেহাল করছে হুথিরা বলে মত বিশ্লেষকদের।

এতোবছর আমেরিকার অস্ত্রের ওপর নির্ভরতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরবের। যেখানে আমেরিকা ইরানের মিসাইল হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে শেষ করেছে নিজের প্রতিরক্ষা ভান্ডার সেখানে সৌদি আরবকে সহায়তা করা ওয়াশিংটনের কাছে অসম্ভব। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সংঘাতও সৌদির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে নতুন করে হুথিদের হামলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত