• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সরকারের 

প্রকাশিত: ০০:৩০, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সরকারের 

দেশের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে নাগরিক সেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আরও সুশৃঙ্খল ও নির্ভুলভাবে পরিচালনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ভুল ও জটিলতা রয়েছে। অথচ দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য না থাকলে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা কঠিন। খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা নির্ধারণ, শিশুদের টিকাদানসহ বিভিন্ন মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার প্রয়োজন।

জন্মনিবন্ধন সনদকে একটি শিশুর আইনি পরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, জন্মনিবন্ধনের তথ্যের ভিত্তিতেই একজন শিশুর জন্মতারিখ, জন্মস্থান, পিতৃত্ব, মাতৃত্ব ও জাতীয়তা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে শুরুতেই জন্মের তথ্য সঠিকভাবে নিবন্ধন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গ্রাম সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৯৮০ ও ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার-সংক্রান্ত আইনগুলো সমন্বয় করে একটি নতুন ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থায় ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে দায়িত্ব ও ক্ষমতা আরও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর ফলে নিবন্ধন সেবা নিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্যভাণ্ডারে ভুয়া বা একাধিকবার একই তথ্য অন্তর্ভুক্তির প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি’ বা একক ডিজিটাল পরিচয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর সঙ্গে ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

একই সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ‘বিডিআরআইএস’ ব্যবস্থাকেও নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, বিডিআরআইএস হচ্ছে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তি। ফলে এই সিস্টেমে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে সরকারের বৃহত্তর ডিজিটাল নাগরিকসেবা উদ্যোগও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য করা এখন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত