• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জাতির অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

রাজেক জাহাঙ্গীর, যশোর

প্রকাশিত: ২২:৩৬, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২২:৩৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জাতির অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু পর্যন্ত জাতির অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর যখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন নিয়ে সমগ্র রাজনৈতিক এবং শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয়, তখন বেগম খালেদা জিয়ার বার্তায় সকল রাজনৈতিক এবং শ্রেণিপেশার মানুষ ঐক্যমতে পৌঁছায়। ঠিক তেমনই, জুলাই সনদ কিংবা সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন রূপরেখা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন যখন মুখোমুখি অবস্থানে তখনও বেগম খালেদা জিয়ার শান্তির বাণী সকল রাজনৈতিক দলকে শান্ত করেছিল।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় যশোর সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত শোক ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) উপশহর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত শোকসভায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বারবার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষহীনতা দেখিয়েছেন। সাধারণ গৃহবধূ থেকে পিচঢালা রাজপথেও নেমে এসেছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। সেদিন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। তার ডাকে সেদিন দেশের সমগ্র ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে এসে স্বৈরাচারের পতন নিশ্চিত করেছিল। নয় বছরের সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি মানুষের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। ৮৬ এবং ৮৮ নির্বাচনে তিনি কোন আপস করেননি। সেদিন থেকে জনগণ তাকে আপসহীন নেত্রী উপাধি দেয়। তার আপসহীতার জয়জয়কার দেখেছি ৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে। সেই নির্বাচনে দেশের মানুষ তাকে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল এবং ধানের শীষের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষিক্ত করে। তিনি মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছিলেন কর্মের মাধ্যমে। এই যশোরের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়নে তার হাতের ছোঁয়া রয়েছে।  

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের কাছেও বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি। মানুষের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের লেখার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। এই লড়াই করতে গিয়ে তিনি জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরিত্যাগ করেছেন এবং আপনজনদের হারিয়েছেন। তারপরও তিনি থেমে থাকেননি। যে কারণে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দেশের সকল মত-পথের মানুষের সম্মিলন ঘটে। এখনো দেশবাসী তাদের অভিভাবককে হারিয়ে ক্রন্দনরত।

উপশহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলাম কামাল, বিএনপি নেতা কাজী কাশেম, আজিজুর রহমান খান, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কাজী শওকত শাহী, উপশহর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। 

শোক সভা পরিচালনা করেন যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য কাজী আজগর হোসেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2