চোখের সামনে হারিয়ে গেলো ছেলে-বউ-শাশুড়ি, কারও শিশু
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় ৫৬ যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মায় তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়। এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। বাসটি যেখানে পড়েছে, সে স্থান অনেক গভীর। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের কাছে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দলও অংশ নিয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকার্য সাময়িক ব্যাহত হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের মৌসুম হওয়ায় বাসের ৫৬ আসনের সব কটি পূর্ণ ছিল। ছিলেন চালক ও তার দুই সহযোগীও। বাসটি পন্টুনে ওঠার পর তিন যাত্রী নেমে গিয়েছিলেন। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কুমারখালী থেকে বাসটি ছেড়ে আসে। যাত্রীদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
এদিকে বাস থেকে বেঁচে ফেরা এক যাত্রী জানান, তার ছেলে, স্ত্রী ও শাশুড়ি ছিলেন বাসটিতে। ফেরিঘাটে ভেড়ানোর সময় হালকা ঝাঁকি লাগে। তিনি মনে করেছিলেন, স্টার্ট দিয়েছে। গাড়িটা আগাবে। কিন্তু গাড়ি আস্তে আস্তে নদীতে তলিয়ে যায়। তিনি গাড়ি থেকে কীভাবে বের হয়েছেন– একমাত্র আল্লাহ জানেন। আরেকজন যাত্রী জানান, তিনি ফেরি দেখার জন্য বাস থেকে নেমেছিলেন। ওই সময় বাসটি নদীতে তলিয়ে যায়। কাঁদতে কাঁদতে জানান, বাসটিতে তার শিশুকন্যা ছিল।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে বাসটি জোরে টান দেয় ফেরিতে ওঠার জন্য। ওই সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। ড্রাইভার অনেক চেষ্টা করেছিলেন বাঁচানোর জন্য। কিন্তু বাসটি উল্টে নদীতে পড়ে যায়।
সৌহার্দ্য পরিবহনের রাজবাড়ীর কাউন্টার ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, বাসটি কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসে। পাংশা, গান্ধীমারা, সোনাপুর মোড়সহ বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী উঠেছেন। রাজবাড়ী থেকে ১৪ জন যাত্রী উঠেছেন। তখন বাসে যাত্রী, চালক, হেলপারসহ ৪৩ জন ছিলেন। বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর বাসের চালক, হেলপারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। কয়েকজন যাত্রী ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছেন।’
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, তিনি যতটুকু জেনেছেন, বাসের তিন যাত্রী বাইরে ছিলেন। গাড়িটি যখন ফেরিতে ওঠে, তখন অনেক বেশি গতি ছিল। এ কারণে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি নদীতে পড়ার পর সাতজনের মতো যাত্রী উঠতে পেরেছেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: