• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, এক লাখ টাকায় আপস করে দিলেন জামায়াত নেতা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ১৪ আগস্ট ২০২৬

ফন্ট সাইজ
শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, এক লাখ টাকায় আপস করে দিলেন জামায়াত নেতা

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইলিয়াস খান (৫০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিমের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। 

গত ৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জয়নগর আয়তুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে বলাৎকার করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সামচু খানের ছেলে ইলিয়াস খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম ও মান্নান শিকদারের নেতৃত্বে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবশেষ গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় জয়নগর মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজ মাঠে ভুক্তভোগী শিশুর বাবাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন সালিশকারীর উপস্থিতিতে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে দাবি করেছেন শিশুটির বাবা। এ সময় মামলা না করার শর্তে একটি লিখিত কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, আমি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। প্রথমে আমি আপসের শর্তে রাজি হইনি। আমি বলেছি, আমি বিচার চাই। পরে স্থানীয় সালিশরা আমাকে এক লাখ টাকা দিয়ে মামলা করবো না—এই শর্তে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেয়।

তিনি আরও বলেন, আমি এই বিচার মানতে চাইনি। পরে আমার এক চাচা মান্নান শিকদার টাকা নিয়ে আমাকে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেন। আমি স্বাক্ষর করে দিই।

এদিকে, শিশুকে বলাৎকারের মতো গুরুতর অভিযোগ স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনে মীমাংসার ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জামায়াত নেতা মাওলানা মো. সেলিম বলেন, আমি তো এখানে একা ছিলাম না। আরও অনেকেই ছিল। ইলিয়াস খান সম্মানিত ব্যক্তি। বিষয়টি সমাধানে এলাকার অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

তবে এক লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সালিশকারী মান্নান শিকদারের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগীর বাবা থানায় আসেননি। তিনি কেন মিথ্যা বলেছেন, আমি জানি না। তবে ফেসবুকসহ কয়েকজনের কাছ থেকে শুনে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত