সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার ছোরাপ মণ্ডলের মেয়ে বিথী আক্তার। পেশায় তিনি একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করছেন।
পরিবারের অভিযোগ, প্রায় চার মাস আগে গর্ভবতী বিথী আক্তারের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। দুই চিকিৎসক ওই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় বিথী আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের।
অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী আক্তার শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের দাবি, তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং তিনি বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত চার মাস ধরে নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরা তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই বিথী। এতে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তার ছোট্ট সন্তান।
পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলার কারণে বিথী আক্তারের এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসকদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি শাস্তি ও জরিমানার দাবি জানিয়েছেন।
বিথী আক্তার জানান, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি ওই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নামও উল্লেখ করেন।
জানা যায়, ডা. তামান্না আক্তার এক মাস ধরে ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছেন। এবিষয়ে অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বিথী আক্তারের পরিবার ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, উন্নত চিকিৎসার নিশ্চয়তা, দায়ী চিকিৎসকদের জবাবদিহি এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: