• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মোবাইল ছিনতাইয়ের জন্য অপ্রতীমকে হত্যা, চার্জশিট ২-৩ দিনের মধ্যে

সুজন মজুমদার, কুমিল্লা

প্রকাশিত: ১২:৫৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মোবাইল ছিনতাইয়ের জন্য অপ্রতীমকে হত্যা, চার্জশিট ২-৩ দিনের মধ্যে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুবদলকর্মী আবু কাউছার হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীম হত্যা মামলায় তিনজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায়। পরে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে তুহিন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ আরও জানায়, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজন কুমিল্লা কারাগারে রয়েছে। ফাহাদ ও কামরুল গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে আটক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত তুহিন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার নুরে আলম ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর সে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়।

ফাহাদ একই ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। সে ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

কামরুল কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া, কালিবাজার এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ও কুলসুম আক্তারের ছেলে।

অন্যদিকে, আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর। সে সদর দক্ষিণ থানার এলাহীপুর এলাকার সেলিম মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। সে কুমিল্লার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার তদন্ত শেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।


 

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত