বসত ঘরের মেঝেতে দুটি কবর ঘিরে জমজমাট ঝাড়-ফুঁক ব্যবসা!
বরিশালে আগৈলঝাড়া উপজেলায় বসত ঘরের মেঝেতে দুটি কবর ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঝাড়ফুক ব্যবসা। সেখানে বিভিন্ন রোগের আরোগ্য লাভের আশায় ছুটে যাচ্ছেন নারী-পুরুষ।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবী এক সপ্তাহ পূর্বে বসত ঘরের মাঝে দুটি কবর জেগে ওঠে। এলাকার কেউ কেউ বিষয়টি মিথ্যা ও ভুয়া বলে কবর দুটি খননের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী ছয় মাস পূর্ব থেকে ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিল। এ সময় তার কাছে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিতে আসতো। প্রতি সোমবার রোগীর সংখ্যা কয়েকগুন বৃদ্ধি পায়।
সজীবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন-গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তাদের বসত ঘরের মেঝে একটি কবর জেগে ওঠে। ওইদিন রাত ১২টার দিকে ওই কবরের পাশে আরেকটি কবর জেগে ওঠে।
এ ঘটনা এলাকায় জানাজানির পরে উৎসুক লোকজন ওই বাড়িতে জেগে ওঠা কবর দেখার জন্য ভীড় করছে এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঘরের মেঝে জেগে ওঠা দুটি কবর নতুন গামছা ও ফুলের মালা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে একটি কবর দুই হাত ও অপরটি তিনহাত লম্বা। কবর দুইটির পাশে বাঁশের খুটির সাথে রশি দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া।
সজীবের মা শিউলী বেগম বলেন, আমার ছেলে সজীব দীর্ঘদিন অসুস্থ্য ছিল। বিভিন্নস্থানে চিকিৎসা নিয়েও ভাল হয়নি। ছয়মাস পূর্বে নিজ বাড়িতে স্বপ্ন প্রাপ্ত হয়ে সে বাড়িতে ধ্যানে বসে নিজে সুস্থ্য হয় এবং বিভিন্ন মানুষকে রোগের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করছে।
পূর্বে হোটেল বয়ের কাজ করা সজীব বেপারী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন থেকে সে ধ্যানে বসে লোকজনকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছি। হঠাৎ করে ২৬ অক্টোবর সকালে তার বসত ঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠে। একইদিন রাতে আরেকটি কবর একই ঘরের মেঝে জেগে ওঠে। কবর দুটি হল বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী ও খাজা মাইনউদ্দিন চিশতীর।
আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক বলেছেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধরনের ঘটঁনার কোন নজির বা ভিত্তি নেই। প্রশাসন তদন্ত করলে আসল ঘঁটনা বেড়িয়ে আসবে। ঝাড়ফুঁক ব্যবসা জমজমাট করতেই এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন-পুরো ঘটনার তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদার বলেছেন, সরেজমিন পরিদর্শনের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: