গোপালগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেলের ৫ বছরের কারাদণ্ড
ছবি: মেহেদী হাসান রাসেল
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নির্মাণাধীন একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় মেহেদী হাসান রাসেল ও তার দুই সহযোগীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তিন জনকেই ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে গোপালগঞ্জের যুগ্ম জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইয়াসিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন- কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের সাহিদুল শেখের ছেলে ও রাসেলের সহযোগী এসএম সাজিদ ওরফে ইয়াসিন শেখ এবং একই গ্রামের আবেদ শেখের ছেলে আব্দুল্লাহ শেখ।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় গত ১০ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখে দায়ের করা মামলা নং- ১১(৩) ২০২৩ এর ধারাগুলো ছিল ১৪৩/৪৪৭/৩৮৫/৩৪১/৫০৬ পেনাল কোড। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এম এ আলম সেলিম এবং এডভোকেট ফয়সাল সিদ্দিকী। রায় শোনার পরই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কাশিয়ানীর সাধারণ মানুষ। এমনকি ওই এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা যায় কোথাও কোথাও।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাশিয়ানী উপজেলারে খাড়গড়াবাড়িয়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে রাসেল ও তার সহযোগীরা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আজিজুল ইসলাম মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে আসামিরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হাতিম আলি মৃধার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় চাঁদা না দিলে কারখানার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ১০ মার্চ আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাশিয়ানী থানার এসআই শাহ্ আলম তদন্ত করে ওই বছরের ১১ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মেহেদী হাসান রাসেল ওই এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার নিজস্ব একটি বাহিনী রয়েছে। এছাড়া তিনি এবং তার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সাভারের আশুলিয়া থানায় জুলাই বিপ্লবের সময় হত্যা মামলাসহ খুন, ডাকাতি, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলাও হয়। এ ছাড়া কাশিয়ানী থানা সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান রাসেল বেশ কয়েকটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: