• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় জড়িত আরো ৬ জন গ্রেফতার, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২০:৩৮, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কিশোরগঞ্জে শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় জড়িত আরো ৬ জন গ্রেফতার, হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় আরো ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসামিদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও ১ ফেব্রুয়ারি রাতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিরাজ ও তার সহযোগী ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে গ্রেফতার করে ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ। 

অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে দানিয়াল (২৫), একই এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে সায়েম ওরফে বাংলা (২৬), ঘোড়াকান্দা এলাকার রফিকুল ইসলাম মিয়ার ছেলে রনি মিয়া (২০), উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর আওয়াল কান্দা এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৫), জেলার কুলিয়ারচর থানার সরারচর এলাকার সবুজ মিয়া পাপ্পু ওরফে তামিম (১৪) ও বাজিতপুর উপজেলার সাপুর এলাকার মৃত এমাদ মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (২২)। 

ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি সাঈদ আহমেদ জানান, ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া নিউটাউন এলাকার রোডসাইড পিৎজা সেন্টারের দক্ষিণ দিকের রেললাইনের পাশ থেকে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান (১৯) এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে থানা পুলিশ। 

আবু সুফিয়ান ওরফে শাহ আলম কিশোরগঞ্জ সদর থানার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বাদে কড়িয়াল এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি শনিবার রাত ১০টায় নিহতের বাবা আবু তাহের মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামি করে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর ১ ফেব্রুয়ারি রাতে মামলার প্রধান আসামি মেরাজকে তার শ্বশুরবাড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মেরাজের দেওয়া তথ্যমতে পঞ্চবটী থেকে নিদানকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যমতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযানে হত্যার সাথে জড়িত ৬ জনকে ভৈরবের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে জড়িত ১৪ বছরের একজন শিশু রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। 

ওসি আরো জানান, আসামিদের তথ্যমতে জানতে পারি ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্দুর ট্রেনে করে ভৈরবে এসেছিল কলেজ ছাত্র আবু সুফিয়ান। ট্রেনের ইঞ্জিন ঘুরানোর সময় ইঞ্জিনে দাড়িয়েছিলেন তিনি। ছিনতাইকারীরা স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন থেকে টেনে হিঁচড়ে আবু সুফিয়ানকে নামিয়ে ছুরিকাঘাত করে। ছিনতাইকারীরা আবু সুফিয়ানের কাছ থেকে নগদ ৮০০ টাকা ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছুরিকাঘাতের পর রাত ১০টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে যেকোন এক সময় আবু সুফিয়ান মৃত্যু বরণ করে। আবু সুফিয়ান হত্যা ঘটনায় দুইদিনে আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। 

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: