• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার স্কুল শিক্ষার্থী আফফান

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৪১, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার স্কুল শিক্ষার্থী আফফান

প্রতিদিনের মতো অফিস শেষ করে সচিবালয় থেকে নামছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হঠাৎ করেই প্রটোকল ভেঙে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে আসেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবু সাঈদ। স্কুল থেকে ফেরার পথে ছেলে অপহরণ হয়েছে, মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলেকে উদ্ধারের অনুরোধ জানায় ওই কর্মকর্তা। সাথে সাথেই অপহৃত আফফানকে উদ্ধারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খিলগাঁও এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পুলিশ।  

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল আনুমানিক পৌনে ৫টার দিকে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলমের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আফফানকে খিলগাঁওয়ের জোর পুকুরপাড়ের একটি নির্মানাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসাপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আফফানের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া আফফান সাঈদ রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ছেলেকে উদ্ধারে এত তড়িত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আফফানের পরিবার। 

উদ্ধারের পর ওই শিক্ষার্থী জানায়, 'স্কুল থেকে ফেরার পথে পাঁচ থেকে ছয় জন তাকে জোর করে পথ রোধ করে। পরে তাকে জোর করে পাশের একটি নির্মানাধীন ভবনে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। 

তবে, উদ্ধার হলেও এখনও আতঙ্ক কাটছে না উদ্ধার হওয়া আফফানের।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম জানান, আফফানকে বিকাল আনুমানিক পাঁচটার দিকে রাজধানীর জোরপুকুরপাড়ের একটি নির্মানাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে, ঘটনাস্থল থেকে আফফানকে উদ্ধার করা গেলেও প্রাথমিকভাবে অপহরণকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে বলেও জানান মাসুদ। 

জানা যায়, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবু সাঈদের ছেলেকে স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহরণ করে দুস্কুতিকারীরা। ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। 

ফোন পাওয়ার সাথে সাথেই ওই শিক্ষার্থীর বাবা আবু সাঈদ তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামার সময় প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে ছেলেকে উদ্ধারের অনুরোধ জানান। 

প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ রমনা জোনের ডিসি মাসুদকে ওই শিক্ষার্থীকে  উদ্ধারের দায়িত্ব দেন। পরবর্তীকালে চামেলী বাগ, ১৬নং নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৭ তলা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পুলিশ।  

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অপহৃত আফফান সাঈদের বাবা শামীম আহমেদের। তিনি বলেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো আমার সন্তানকে এভাবে ফিরে পেতাম না। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবী করেছিলো। কিছু সময় পর আমার শ্যালককে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দিতে বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে। পুলিশ কিংবা কাউকে জানালে আফনানকে মেরে ফেলা হবে বলে জানায়। 

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টির তদারকি করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধার করতে পারায় অনেক ভালো লাগছে বলেন তিনি। 

কারা অপহরণ করেছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপহরণকারীরা ওই এলাকারই ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবী। বিষয়টি আমরা আরো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। আরো কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত