মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতাকে মারধর, এখনো অধরা অভিযুক্তরা
মারধরের শিকার যুবদলের ৩ নেতা (বায়ে) ও অভিযুক্ত আল আমিন
রাজধানীর দক্ষিণখানে স্যুয়ারেজ লাইনের মাটি বিক্রিতে বাধা দেয়ায় যুবদল নেতা রাসেল সরকারসহ তিনজনকে রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় মামলা হওয়ার তিনদিনেও ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্তসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহারসূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে দক্ষিণখানের আমবাগিচা এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ চলাকালে সরকারি প্রকল্পের অতিরিক্ত মাটি জোরপূর্বক বিক্রি করছিলেন শান্ত। ভুক্তভোগী দক্ষিণখান থানা যুবদল নেতা রাসেল সরকার সামনের একটি রাস্তায় চলাচলের সুবিধার জন্য কিছু মাটি সেখানে ফেলার অনুরোধ করেন এবং প্রয়োজনীয় খরচ দেয়ার প্রস্তাব দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শান্ত ও তার সহযোগীরা রাসেল ও তার সাথিদের ওপর হামলা চালায়, মারধর করে।
এছাড়াও আল আমিন হোসেন শান্তর বিরুদ্ধে একের পর এক সংগঠনবিরোধী কার্যকালাপে জড়িত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরের এলডি তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করে পাম্পের ক্যাশ থেকে ৯০ হাজার টাকা লুটের অভিযোড়গে গত ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা রয়েছে।
এদিকে সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর আল আমিন হোসেন শান্তকে নিয়ে তার ফেসবুকে লিখেছেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে আল আমিন শান্তর ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, জানতে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব ভাই এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। পেট্রোল পাম্পের ঘটনায় আল আমিনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে তারা আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিষয়টিতে তাদের আন্তরিকতায় বুঝেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল তখন ব্যবস্থা নেয়নি। পেট্রোল পাম্পে হামলার ঘটনায় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন শান্তর ব্যবস্থা নিলে আজ হয়তো এই মারামারির ঘটনা ঘটতো না। শান্তর অন্তত দুটি ঘটনায় ছাত্রদল এবং বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।
দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সড়কের মাটি নিয়ে শনিবার দুপুরে যুবদল নেতা রাসেলের সঙ্গে আল আমিন হোসেন শান্তর মারামারি হয়। এতে রাসেলসহ যুবদলের তিন নেতা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় রাসেল সরকার বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে ৭ মার্চ উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-২ এলাকায় অবস্থিত ডিএল ফিলিং স্টেশনে একটি মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের সঙ্গে অভিযুক্তদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মোবাইল ফোনে আরও কয়েকজনকে ডেকে এনে স্টেশনের কর্মচাদের মারধর করেন। পরে বেলা প্রায় ২টার দিকে অভিযুক্তরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে ফিলিং স্টেশনে এসে বাদী আব্দুল বাসারকে মারধর করে। এ বিষয়ে উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: