শিশুর আঙুল কাটার ঘটনায় পুলিশ সদস্য স্বস্ত্রীক কারাগারে
নাটোরে দুই শিশুর বিরোধের জেরে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের তর্জনী আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় মামলা করেছেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শাকিল হোসেন ও তার স্ত্রী নাছিরনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকার একটি বাসায় ভাড়াটিয়ারা মিলে পিকনিকের আয়োজন করেন। এ সময় বাসার মালিকের ছেলে সাত বছরের বায়েজিদ বিন মাহমুদ এবং ভাড়াটিয়া পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেনের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে ইবনাতের মধ্যে খেলাধুলা নিয়ে মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে তারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি অন্য ভাড়াটিয়ারা সেদিন রাতেই মীমাংসা করে দেন। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে শাকিল হোসেন বায়েজিদকে তাদের বাসা থেকে জোরপূর্বক ধরে নিজ বাসায় নিয়ে যান এবং দরজা বন্ধ করে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে শাকিলের স্ত্রী নাছিরনের সহযোগিতায় বায়েজিদের ডান হাতের তর্জনী আঙুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। এ সময় বায়েজিদের চিৎকারে অন্য ভাড়াটিয়ারা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বায়েজিদকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই বায়েজিদের বাবা মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে শাকিল হোসেন ও তার স্ত্রী নাছিরনকে আসামি করে নাটোর সদর থানায় মামলা করেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, শাকিল হোসেন নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত ছিলেন। সদর থানায় মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে শাকিল ও তার স্ত্রী নাছিরনকে ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: