• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ভুয়া কাবিননামা ও তালাকনামা তৈরির অভিযোগ, সহযোগীসহ আইনজীবী কারাগারে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩:৪৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৩:৪৭, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ভুয়া কাবিননামা ও তালাকনামা তৈরির অভিযোগ, সহযোগীসহ আইনজীবী কারাগারে

আদালত অবমাননা, নৈতিক স্খলন ও জালিয়াতির সাথে জড়িত অভিযোগ এনে এক নারীর করা মামলায় সহযোগীসহ পিএম সিরাজুল ইসলাম নামের আইনজীবীকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ইতোপূর্বে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সংশোধন না হওয়ায় কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি হতে বহিষ্কৃত হন তিনি। 

নোটারী পাবলিক আইনজীবী পি,এম সিরাজুল ইসলামের মুখ্য আয়ের উৎস- ভুয়া কাবিন, তালাকনামা এবং এফিডেভিটসহ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আদালত চত্বরে সর্বজন জ্ঞাত। এজাতীয় প্রতারণার অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ ওই আইনজীবীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ১১ আগস্ট মামলা করেন কুষ্টিয়া মডেল থানায়। মামলা নং ১৩। এ মামলার এজাহার নামীয় আসামি পিএম সিরাজুল ইসলাম গত ২৫ আগস্ট বিচারপতি কেএম জাহিদ সারোয়ার ও শেখ আবু তাহের দ্বয়ের উচ্চ আদালতের বেঞ্চ থেকে আট সপ্তাহের এন্টিসিপেটরি জামিন নেন। উচ্চ আদালতের দেওয়া আট সপ্তাহের সময় শেষে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কুষ্টিয়া চিফ জুডিসিয়িাল ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ আল মানুন এর আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনাবেদন করেন তিনি। আদালত শুনানি শেষে বিকাল ৫টায় জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালত পুলিশের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, ‘জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ এনে শায়লা শারমিন নামে এক নারীর করা মামলায় এজাহার নামীয় আসামি আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলাম ও অমিত হাসান নামে দুইজন জামিনাবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিচারক ও বিচারপতিদের রচিত আইনের বই কাভার পেজ ফেলে দিয়ে নিজের নামে প্রকাশনা জালিয়াতিসহ সরকারের স্পর্শকাতর ও গুরুতর বিষয়ে জাল-জালিয়াতির অভিযোগ বিচার বিভাগীয় তদন্তাধীন রয়েছে। সে কারনে সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত জামিন না মঞ্জুর করেন’।

এই মামলার অপর দুই আসামি হলেন- কুমারখালী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জলহাজ্ব উদ্দিনের ছেলে মহিদুল ইসলাম মিশন (৩৬) এবং কুষ্টিয়া শহরের পিয়ারাতলার বাসিন্দা আফিল উদ্দিনের ছেলে অমিত হাসান (৪০) বলে জানান আদালত পুলিশের এই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে পিএম সিরাজুলের আইনজীবী কুষ্টিয়া বারের সভাপতি শেখ মো. আবু সাইদ দবি করেন, ‘পিএম সিরাজুলের মামলা জামিনযোগ্য ধারায় হওয়ার পরও আদালত জামিন না মঞ্জুর করেছেন এটা একান্তই আদালতের এখতিয়ার। তবে মনে হয়েছে আমার মক্কেলের কোন আচরণগত বিচ্যুতির ফলে আদালত এমন হার্ড লাইনে গিয়ে থাকতে পারেন।

এই মামলার বাদিনীর করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, এজাহার নামীয় বিবাদী মহিদুল ইসলাম মিশনের সাথে দাম্পত্য জীবনে ৮ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য জীবনের এই পর্যায়ে এসে বিবাদী মহিদুলের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ১ম স্ত্রী বাদিনীর অজান্তেই গোপনে বিবাদী ২য় বিয়ে করে। এঘটনার প্রতিকার ও বিচার চেয়ে বাদিনী আদালতে নালিশী মামলা করেন। ওই মামলা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য বিবাদী মহিদুল আপস মিমাংশার কথা বলে জাল-জলিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নেন। নোটারি পাবলিক আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের চেম্বারে অপর যোগসাজসী সহযোগী অমিত হাসানদের সাহায্যে বাদীর বিরুদ্ধে ভুয়া তালাক নামার বিপরীতে পুনরায় বাদীকে বিবাহের কাবিন তৈরী করেন এবং ২য় স্ত্রীকে তালাকের নামে ভুয়া তালাকনামা সৃষ্টি করেন। একই সাথে বাদীনীর সাথে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার অঙ্গীকারে একটি ভুয়া এফিডেভিট তৈরী করেন। আসামিগণের পরস্পর যোগসাজসে ভুয়া ভাবে তৈরী করা এসব কাগজ পত্রের শর্ত ভঙ্গ করায় বাদিনী ন্যায় বিচার চেয়ে পুনরায় আদালতের দ্বারস্ত হন। পরে আদালতের আদেশে তদন্তে নেমে বাদীনীর নালিশী এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ পায়। নোটারী পাবলিক আইনজীবী পিএম সিরাজুল ইসলামের চ্যাম্বারে এই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সকল সকল কাগজপত্রে জাল-জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এঘটনায় প্রতারিত ভুক্তভোগী বাদিনী বিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত এজাহারটি আমলে নিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসিকে মামলা রেকর্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আদালত চত্বরে অসাধু নোটারী পাবলিক আইনজীবীদের ভুয়া বিয়ের কাবিন, তালাকনামা ও কোর্ট ম্যারেজের নামে করা ভুয়া এফিডেভিটে প্রতারণাসহ বাল্যবিয়ে দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় আদালতের নজরে আসে । অবশেষে এবিষয়ে এক নারী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আদলতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশনায় মামলাটি বিশেষ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত