• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ৪ মাসের মধ্যে বড় পতন, দেশে কত?

প্রকাশিত: ২০:৩১, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ৪ মাসের মধ্যে বড় পতন, দেশে কত?

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এ চাপ পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। টানা দরপতনে মূল্যবান ধাতুটির দাম গত চার মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতনের পথে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৩.৩৪ ডলারে নেমে আসে। দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে দাম ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে ৩.৬ শতাংশ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুনের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন হতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা তেলের বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে-এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। স্বর্ণে বিনিয়োগ থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বেশি থাকলে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়ে, যা স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্যাপিটাল ডটকমের বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান মন্টে সাফিয়েদ্দিন বলেন, বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার ওপরে ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এই সীমার নিচে দাম নেমে গেলে বাজারে সুদের হার কমার প্রত্যাশার বদলে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, উচ্চ বন্ড ইল্ড ও শক্তিশালী ডলারের প্রভাব বাড়ছে-এমন ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

তার মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, বন্ডের ইল্ড এবং সুদের হার কমানোর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। স্বর্ণের বাজারের জন্য এমন পরিস্থিতি অনুকূল নয়।

বিনিয়োগকারীদের নজর এখন ২৭ ও ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় বা পিসিই মূল্যসূচকের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের এই সূচককে ফেডারেল রিজার্ভ বিশেষ গুরুত্ব দেয়; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ।

বাজারের অধিকাংশ লেনদেনকারী ধারণা করছেন, আগামী সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ বলে বাজারের পূর্বাভাসে উঠে এসেছে।

এদিকে, নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: