বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেছে একই পরিবারের ৪ সদস্য
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাকারিয়া আলম ঝিকু। প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তনে অংশ নিয়েছেন তিনি। তাই তো চার হাজার সমাবর্তীর মতো তিনিও বেশ উচ্ছ্বসিত। যদিও তার এই উচ্ছ্বাসের পেছনে আরেকটি ভিন্ন কারণও রয়েছে। আর সেটি হলো একই সমাবর্তনে ডিগ্রি নিয়েছেন তার বোন, স্ত্রী ও ভগ্নিপতি।
মো. জাকারিয়া আলম ঝিকু ছাড়া একই সমাবর্তনে ডিগ্রি নেওয়া তার পরিবারের অপর তিন সদস্য হলেন- ঝিকুর ছোট বোন ফারিয়া নাদির যুমার, স্ত্রী নুসরাত জাহান এবং ভগ্নিপতি ফাহাদ বিন ইউসুফ। তারা তিনজনই বুটেক্স অধিভুক্ত নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বুটেক্সের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আনুষ্ঠানিকভাবে বুটেক্স ও অধিভুক্ত সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ মিলিয়ে ৪১২৬ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি দেওয়া হয়।
উক্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জুংগাই ওয়াং এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ।
মো. জাকারিয়া আলম ঝিকু বর্তমানে চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, ‘বুটেক্স আমার কাছে অনেক আবেগের জায়গা। আমি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংকে মন থেকে ধারণ করি এবং দেশ ও জাতির জন্য ক্ষুদ্র হলেও কিছু করে যেতে চাই। সেটা আমার শ্রম, মেধা যা আছে সবকিছু দিয়ে।’
কাকতালীয়ভাবে মো. জাকারিয়া আলম জিকু নিজেও দীর্ঘদিন প্রভাষক ছিলেন নোয়াখালী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যেখানে বর্তমানে তার স্ত্রী শিক্ষকতা করছেন। তিনি আরো বলেন, ‘জীবনে আসলে কখনো ভাবিনি এরকম কাকতালীয়ভাবে কিছু ঘটে যাবে। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া যে আমাদের পরিবারের সবাইকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার তৌফিক দান করেছেন এবং গ্র্যাজুয়েট হিসেবে কবুল করেছেন। সব সম্ভব হয়েছে আমাদের বাবা-মা'র অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দোয়ার কারণে।’
বিভি/এআই




মন্তব্য করুন: