• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা-সাহিত্য উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২৩:৫১, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২৩:৫১, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা-সাহিত্য উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা-সাহিত্য উন্নয়নবিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন ও ক্রিয়েটিভ আর্টস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিয়েটিভ আর্টস, ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (আইসিএএলডিআরসি) লিঙ্গুইস্টিকস ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (মহাপরিচালক) ও  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের আন্তর্জাতিক সৃজনশীল ও একাডেমিক সমন্বয় বাংলাদেশের মেধা ও সৃজনশীলতাকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল মাজিদ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নেছার ইউ আহমেদ।

‘ইমপ্যাক্ট অব ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচার অন ইনরিচিং মাইন্ডস অ্যান্ড ইন্সপায়ারিং লাইভস’ শীর্ষক এই সেমিনারে কি-নোট বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রফেসর ড. নেছার ইউ আহমেদ এবং চীনের ভাষা শিক্ষক লিউ ওয়েনলি।

কি-নোট বক্তব্যে প্রফেসর ড. নেছার ইউ আহমেদ বলেন, ‘ভাষা মানুষের জীবন, অনুভূতি, ভালোবাসা, বেদনা ও স্বপ্নের প্রতিফলন। বিপ্লব, শাসন কিংবা আন্তরিকতার প্রকাশ—সবকিছুই ভাষার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ক্রিয়েটিভিটির মধ্য দিয়ে হৃদয়ে যে সৃষ্টির জন্ম হয়, ভাষাই তা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। এই ভাষাই আমাদের পরিচয়, উৎকর্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে আইসিএএলডিআরসির মহাসচিব প্রফেসর লুৎফর রহমান জয় বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী ও সৃজনশীল মানুষদের একত্র করে একটি বৈশ্বিক গবেষণা ও সৃজনশীল প্ল্যাটফরম গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

সেমিনার ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের ভাষা, সাহিত্য, গবেষণা, কৃষি, শিক্ষা, দর্শন, পারফরমিং আর্টস ও সৃজনশীল শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মোট ৫০ জন গুণীকে সম্মাননা ও ফেলোশিপ প্রদান করা হয়।

তরুণ নেতৃত্ব ও সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে সমাজ পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিয়েটিভ আর্টস এ্যাওয়ার্ড ও ফেলোশিপ ২০২৫ পান শারমিন লিনা । অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তিতে শারমিন লিনা বলেন, আমাদের যোগ্য মানুষকে সঠিক জায়গায় রেখে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করতে হবে। বর্তমানে ভাইরাল হওয়ার একটা অসুস্হ প্রতিযোগিতায় মত্ত হয়ে যাকে ইচ্ছে তাকে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এটা একদমই ঠিক নয়। আমাদের সবাইকে যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে হবে। আইকলডিআরসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, এই ধরনের অ্যাওয়ার্ড পেলে সত্যিই অনুপ্রাণিত হই এবং আমি বিশ্বাস করি, আমার মতন প্রত্যেক পরিশ্রমী নারীদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা যোগাবে এমন সম্মাননা। এসময় তিনি অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং সবার নিকট দোয়া কামনা করেন।

এর আগে শারমিন নাহার লিনা ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, তুরস্ক, দুবাই, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। পাশাপাশি অনুষ্ঠান উপস্থাপনায়ও সমান দক্ষতা অর্জন করেন। পৈতৃক বাড়ি মাদারীপুর ও মাগুরা জেলায় বেড়ে ওঠা শারমিন নাহার লিনা বেসরকারি  টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি ছাড়াও বাংলাভিশন, আরটিভি, চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরেও সংবাদ উপস্থাপন করেছেন সেই সঙ্গে টক শো উপস্থাপনাতেও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাত বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে।  শারমিন লিনা ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে  বর্তমানে টক শো, আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও উদ্যোক্তা হিসেবে অনলাইন বিজনেস নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিভি/এসজি

মন্তব্য করুন: