• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাবি ছাত্রীকে আটকে রেখে নির্যাতন, সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৪৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৫:৪৯, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জাবি ছাত্রীকে আটকে রেখে নির্যাতন, সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম (৩২) আইআইটি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের (২০১৪–১৫) শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ৫৩তম ব্যাচের। ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি তার বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই শিক্ষক জানান, “অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর পূর্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম হলের সামনে এসে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।”

শিক্ষক আরও বলেন, “একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত তার মুখে টেপ লাগিয়ে বেঁধে ফেলে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন।”

নির্যাতনের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী পুড়ে যাওয়ার ক্ষতের ওষুধ কিনতে বাইরে যেতে চাইলে অভিযুক্ত কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগী তখন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

পুলিশ প্রথমে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, “ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে প্রায় ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে রেফার করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে জেনেছি। তবে এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।”

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত