• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

জেমস বন্ড চরিত্রে আসছে নতুন হিরো, দৌড়ে এগিয়ে কে?

প্রকাশিত: ২৩:৪২, ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
জেমস বন্ড চরিত্রে আসছে নতুন হিরো, দৌড়ে এগিয়ে কে?

ব্রিটিশ চলচ্চিত্রের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত চরিত্র জেমস বন্ডের ভূমিকায় অভিনয়ের দৌড়ে এগিয়ে গেছেন অভিনেতা ক্যালাম টার্নার। ডেনিস ভিলনেভ পরিচালিত সিরিজটির পরবর্তী সিনেমায় ০০৭-এর আইকনিক পোশাকে তাকেই দেখা যেতে পারে বলে জোর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি চূড়ান্ত অডিশন বা স্ক্রিন টেস্টের পর বাজির বাজারেও টার্নারের সম্ভাবনা বেড়েছে।

বুকমেকার প্রতিষ্ঠান উইলিয়াম হিল ক্যালাম টার্নারকে পরবর্তী জেমস বন্ড হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বাজির দর ৩/১ থেকে কমিয়ে ৮/১৩ করেছে। অর্থাৎ, তাকে এখন সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তালিকায় আগে শীর্ষে থাকা জ্যাক লোডেনের বাজির দর এখন ২/১। সম্প্রতি অডিশন দেওয়া জশ ও’কনরের দর ৯/২। অন্যদিকে রিচার্ড ম্যাডেন, রবার্ট প্যাটিনসন ও জো অ্যালউইনের দর ১৬/১।

টার্নারকে ঘিরে আলোচনা জোরালো হয়েছে সপ্তাহান্তে তার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টোয়েন্টিটু ফিল্মস লিমিটেডের পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর খবর প্রকাশের পর। গত বছরের আগস্টে স্ত্রী ও সংগীতশিল্পী দুয়া লিপার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। তার এই সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ চলচ্চিত্রজগতে নতুন কোনো বড় দায়িত্বের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।

শনিবার হ্যালোইন উপলক্ষে দুয়া লিপা ও টার্নার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে তাদের মার্টিনি পান করতে দেখা যায়, যা জেমস বন্ডের পরিচিত প্রিয় পানীয়।

সাবেক জেমস বন্ড অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনানও টার্নারের প্রশংসা করেছেন। ২০১৭ সালের দ্য অনলি লিভিং বয় ইন নিউইয়র্ক চলচ্চিত্রে ব্রসনানের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন টার্নার। ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রসনান বলেন, “ক্যালামের সঙ্গে আমি কাজ করেছি। সে অসাধারণ শক্তিশালী একজন অভিনেতা।”

সম্ভাব্য অন্য অভিনেতাদেরও প্রশংসা করেন ব্রসনান। তার ভাষায়, তালিকায় থাকা প্রত্যেক অভিনেতার নিজস্ব অভিনয়শৈলী, শারীরিক গঠন ও পর্দায় উপস্থিতি রয়েছে। অভিনয়জীবনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সামর্থ্যও তাদের আছে।

টার্নার, লোডেন ও ও’কনর—তিনজনেরই বয়স ৩৬ বছর। তারা শ্বেতাঙ্গ ও বিষমকামী অভিনেতা। ফলে তাদের কেউ নির্বাচিত হলে জেমস বন্ড চরিত্রে ব্রিটিশ লেখক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের মূল ধারণার সঙ্গে অনেকটাই মিল থাকবে। তবে নতুন বন্ড নির্বাচনে অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস কতটা পরিবর্তনের পথে হাঁটবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জিকিউকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যাক লোডেন বলেন, জেমস বন্ডের চরিত্রে তার নাম আলোচনায় আসা ‘বেশ প্রশংসনীয়’। তবে এ বিষয়ে গুজব আরও বাড়াতে চান না তিনি।

অন্যদিকে মঙ্গলবার বিবিসিকে জশ ও’কনর বলেন, বন্ডের মতো চরিত্রের জন্য বিবেচিত হওয়াই তার কাছে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এমন একটি চরিত্রের সঙ্গে নিজের নাম উচ্চারিত হওয়াকেও তিনি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

জেমস বন্ড সিরিজের ২৬তম সিনেমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কবে নতুন অভিনেতার নাম ঘোষণা করবে, তা এখনো জানা যায়নি। তবে প্রযোজক অ্যামি পাসক্যাল জানিয়েছেন, বছরের শেষ নাগাদ এ ঘোষণা আসতে পারে।

মডেল হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন টার্নার। পরে জন বুরম্যান পরিচালিত ২০১৪ সালের কুইন অ্যান্ড কান্ট্রি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিনেমা দ্য ক্রাইমস অব গ্রিন্ডেলওয়াল্ড এবং দ্য সিক্রেটস অব ডাম্বলডোর-এ নিউট স্ক্যামান্ডারের ভাইয়ের চরিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।

তার সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে রয়েছে জর্জ ক্লুনির দ্য বয়েজ ইন দ্য বোট (২০২৩) এবং এলিজাবেথ ওলসেন ও মাইলস টেলারের সঙ্গে অভিনীত প্রেমের ত্রিভুজ নিয়ে নির্মিত কমেডি ইটারনিটি (২০২৫)।

এ বছর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ব্যঙ্গধর্মী সিনেমা রোজবুশ প্রুনিং এবং সাইবারপাঙ্ক সিরিজ নিউরোম্যান্সার-এ দেখা যাবে টার্নারকে। বর্তমানে তিনি দুটি সিনেমার কাজ করছেন—স্মাইল সিরিজের পরিচালকের হরর সিনেমা পজেশন এবং মারিয়েল হেলারের ক্রীড়াভিত্তিক কমেডি দ্য কামব্যাকার, যেখানে টম হ্যাঙ্কসও অভিনয় করছেন।

ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ জেমস বন্ড সিনেমা নো টাইম টু ডাই মুক্তি পায় ২০২১ সালে। সিরিজের ২৫তম সিনেমাটির কাহিনিতে বন্ডের মৃত্যু দেখানো হয়েছিল। তবে শেষ দৃশ্যে ‘জেমস বন্ড ফিরে আসবে’ বার্তার মাধ্যমে চরিত্রটির প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রযোজক আলবার্ট ‘কাবি’ ব্রকোলির উত্তরসূরি বারবারা ব্রকোলি ও মাইকেল জি উইলসন সিরিজটির সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণের স্বত্ব অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের কাছে বিক্রি করেন। চুক্তিটির মূল্য ছিল ১০০ কোটি ডলারের বেশি।

এরপর নতুন সিনেমার প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হন অ্যামি পাসক্যাল ও ডেভিড হেইম্যান। ডিউন সিনেমার পরিচালক ভিলনেভকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। চিত্রনাট্য লিখছেন পিকি ব্লাইন্ডার্স-এর নির্মাতা স্টিভেন নাইট। সিনেমাটি ২০২৮ সালে মুক্তি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরিত্রটির কিছু স্বত্ব এখনো ব্রকোলির হাতে রয়েছে। গত বছর তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন জেমস বন্ড হবেন একজন পুরুষ এবং তার বয়স সম্ভবত ৩০-এর কোঠায় থাকবে। তবে তিনি শ্বেতাঙ্গ হবেন, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেছিলেন ব্রকোলি।

ভিলনেভ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকের ধারণা, নতুন সিনেমাটি হবে গম্ভীর, বাস্তবধর্মী ও দৃশ্যগতভাবে আকর্ষণীয়। রজার মুর ও শন কনারির সময়কার কিছু সিনেমায় যে রসিকতা ও হালকা মেজাজ দেখা গিয়েছিল, নতুন ছবিতে তার বদলে আরও গভীর আবহ থাকতে পারে। চিত্রনাট্যকার নাইট বলেছেন, তিনি এমন কিছু তৈরি করতে চান, যা একই সঙ্গে পরিচিত ও নতুন, আরও শক্তিশালী এবং সাহসী হবে।

ড্যানিয়েল ক্রেগ চরিত্রটি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবং করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তার শেষ সিনেমা মুক্তিতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় গত চার বছরে অনেক অভিনেতার নাম পরবর্তী বন্ড হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

একসময় টম হিডলস্টন, টম হার্ডি ও ইদ্রিস এলবাকে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে নতুন সিনেমার কাজ দীর্ঘদিন পিছিয়ে যাওয়ায় তাদের বয়স নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে অ্যারন টেলর-জনসন, টম হল্যান্ড, জেমস নর্টন, ড্যামসন ইদ্রিস, হেনরি ক্যাভিল, থিও জেমস, জ্যাকব এলর্ডি, পল মেসকাল ও জেমি ডরনানের নামও আলোচনায় আসে।

১৯৬২ সালে ড. নো সিনেমায় প্রথম জেমস বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন স্কটিশ অভিনেতা শন কনারি। সিনেমাটি ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় পরবর্তী পাঁচ বছরে আরও চারটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি—ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ, গোল্ডফিঙ্গার, থান্ডারবল এবং ইউ অনলি লিভ টোয়াইস। এসব সিনেমাকে সিরিজের সেরা কাজগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়।

ইয়ান ফ্লেমিংয়ের পছন্দের অভিনেতা ইংল্যান্ডের ডেভিড নিভেন ১৯৬৭ সালের ক্যাসিনো রয়্যাল সিনেমায় বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে ছবিটি আনুষ্ঠানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত নয়। অস্ট্রেলীয় অভিনেতা জর্জ ল্যাজেনবি ১৯৬৯ সালের অন হার ম্যাজেস্টিস সিক্রেট সার্ভিস সিনেমায় একবার বন্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেন। পরে কনারি ১৯৭১ সালের ডায়মন্ডস আর ফরএভার দিয়ে ফিরে আসেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত সাতটি সিনেমায় বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন রজার মুর। তার সিনেমাগুলোতে তুলনামূলকভাবে রসিকতা ও ব্যঙ্গের ছাপ ছিল। ১৯৮৩ সালে নেভার সে নেভার এগেইন সিনেমায় আবারও বন্ডের চরিত্রে অভিনয় করেন কনারি।

এরপর ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে দুটি সিনেমায় বন্ড হন টিমোথি ডাল্টন। পাঁচ বছরের বিরতির পর ১৯৯৫ সালে গোল্ডেনআই সিনেমায় আইরিশ অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান চরিত্রটিতে আত্মপ্রকাশ করেন। তার অভিনীত চারটি সিনেমার পর বন্ডের দায়িত্ব নেন ড্যানিয়েল ক্রেগ।

এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক জেমস বন্ড সিনেমাগুলো বিশ্বজুড়ে মোট ৭৮০ কোটি ডলার আয় করেছে। ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র সিরিজগুলোর মধ্যে এর অবস্থান পঞ্চম। পণ্য বিক্রি ও স্পনসরশিপ চুক্তি থেকে আয় এর চেয়েও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়।

সূত্র: গার্ডিয়ান

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত