সৌদিতে কাঠের তক্তা মাথায় পড়ে প্রাণ গেল কিশোরগঞ্জের ফয়সালের
সৌদি আরবের মক্কায় কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার প্রবাসী ফয়সাল মিয়া (২৮)।
নিহত ফয়সাল মিয়া কটিয়াদী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নামা বোয়ালিয়া এলাকার মৃত মো. চান মিয়ার ছেলে। তিনি সৌদি আরবের মক্কায় একটি কোম্পানিতে প্রায় ১৪ বছর ধরে কাজ করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে সৌদি আরবে থাকা পরিচিতজনদের মাধ্যমে ফয়সালের দুর্ঘটনার খবর পান স্বজনেরা। কর্মস্থলে ছয়তলা ভবনের ওপর থেকে একটি কাঠের তক্তা তাঁর মাথায় পড়ে। পরে তাঁকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর পান পরিবারের সদস্যরা।
ফয়সালের বড় ভাই মো. সজল মিয়া জানান, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে ফয়সাল ছিলেন সবার ছোট। দুর্ঘটনার আগের রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। এ সময় ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানান ফয়সাল। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ঝগড়া-বিবাদ না করে মিলেমিশে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর রাতে কাজে যান তিনি।
সজল মিয়া বলেন, ফয়সালের আগামী মাসের ৬ তারিখে দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না, ফিরতে হচ্ছে মরদেহ হয়ে। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা।
তিনি আরও বলেন, ফয়সালের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চান তাঁরা। পাশাপাশি তাঁর মা, স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তারও দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগসহ সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তা মরদেহের অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: