• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সাম্প্রদায়িক কারণে মারা যাননি ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলী

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সাম্প্রদায়িক কারণে মারা যাননি ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলী

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি ছবি প্রচার করা হয়েছে, যার ক্যাপশনে লেখা ছিল, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী অনন্য গাঙ্গুলিকে আজ মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।” পরবর্তীতে পোস্টটি আরেকটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয় এবং ক্যাপশনে লেখা হয়, “তিনি আরও বেশি বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি যেকোনো ‘কাংলু’-র চেয়ে অনেক বেশি সুদর্শন ছিলেন। স্পষ্টতই ঈর্ষা থেকেই তাকে ‘কাংলু’-রা হত্যা করেছে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশি মুসলিমদের বিদ্রূপাত্মকভাবে অনেকে ‘কাংলু’ বলে থাকে, বিশেষ করে ভারতীয়রা। অর্থাৎ, প্রচারিত দাবিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক কারণে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীকে হত্যা করা হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রদায়িক কারণে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীকে হত্যা করার দাবি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, পরিবারের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তাকে হত্যা করার দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’ এর ওয়েবসাইটে ‘ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর আত্মহত্যা’ শিরোনামে গত ১ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আলোচিত দাবির সঙ্গে প্রচারিত পোস্টে ব্যবহৃত ছবিরও উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জানুয়ারি অনন্য গাঙ্গুলী মারা গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “জানা গেছে, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অনন্যর বাবা জানান, তাঁর ছেলে মেধাবী হলেও বেশ কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল।” এছাড়াও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার আগে কলেজে পড়ার সময় মানসিক অসুস্থতা ও নানা কারণে প্রায় পাঁচ বছর তিনি পড়াশোনা থেকে দূরে ছিলেন।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে একই ধরনের তথ্য অন্যান্য গণমাধ্যম সূত্র থেকেও পাওয়া যায়। কোথাও সাম্প্রদায়িক কোনো সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বা অনন্যকে হত্যা করা হয়েছে এমন কোনো দাবি নেই।

সুতরাং, “সাম্প্রদায়িক কারণে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীকে হত্যা করা হয়েছে” শীর্ষক দাবি বিভ্রান্তিকর।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: