মেটার নতুন পেটেন্ট: মৃত্যুর পরেও সক্রিয় থাকবে আইডি!
প্রতীকী ছবি
মৃত্যুর পরও সচল থাকবে সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট—এমনই এক চমকপ্রদ এআই প্রযুক্তির পেটেন্ট করেছে মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সিস্টেমের পেটেন্ট এনেছে, যা ব্যবহারকারীর অনলাইন আচরণ অনুকরণ করে মৃত্যুর পরও অ্যাকাউন্টকে ‘সক্রিয়’ রাখতে সক্ষম হবে।
পেটেন্ট নথি অনুযায়ী— এই প্রযুক্তিতে একটি শক্তিশালী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) ব্যবহার করা হবে, যা ব্যবহারকারীর আগের পোস্ট, মন্তব্য, রিঅ্যাকশন ও ইনবক্স মেসেজ বিশ্লেষণ করে তার আচরণগত ধরন শিখবে। এরপর ব্যবহারকারী দীর্ঘদিন অনলাইনে না থাকলে কিংবা মৃত্যুবরণ করলে, সেই এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পোস্ট করতে পারবে, অন্যের পোস্টে লাইক-কমেন্ট করতে পারবে এবং মেসেজের উত্তরও দিতে সক্ষম হবে।
এমনকি প্রযুক্তিটি ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর, কথার ভঙ্গি ও স্টাইল অনুকরণ করে অডিও বা ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সম্ভাবনাও রাখে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেটার দাবি, এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মূলত অচল অ্যাকাউন্টগুলোকে সক্রিয় রাখা এবং বিশেষ করে সেলিব্রেটিদের ক্ষেত্রে অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে তাদের অনুপস্থিতির শূন্যতা কমিয়ে আনা।
প্রযুক্তিবিশ্বে এই ধরনের ধারণাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়—ডেথ বটস (Death Bots), ঘোস্ট বটস (Ghost Bots), গ্রিফ টেক (Grief Tech)। এর উদ্দেশ্য হলো হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের ডিজিটাল উপস্থিতির মাধ্যমে মানুষকে মানসিকভাবে শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি যতটা চমকপ্রদ, ততটাই ভয়ংকর ও বিতর্কিত। কারণ মৃত ব্যক্তির ডিজিটাল পরিচয় এআই দ্বারা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সম্মতি, গোপনীয়তা, পরিচয় জালিয়াতি এবং পরিবার-বন্ধুদের আবেগগত প্রভাব নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যায়।
যদিও পেটেন্টটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, মেটা জানিয়েছে—এই প্রযুক্তি এখনই বাস্তবে ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তাদের মতে, পেটেন্ট অনেক সময় ভবিষ্যতের ধারণাগত উদ্ভাবনের জন্য নেওয়া হয়, যা বাস্তবে কার্যকর নাও হতে পারে। সূত্র: সায়েন্স বি
বিভি/এমআর



মন্তব্য করুন: