• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

কল এলেই ভেসে উঠবে নাম-নম্বর, প্রতারণা ঠেকাতে ভারতে নতুন প্রযুক্তি

প্রকাশিত: ০১:১১, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
কল এলেই ভেসে উঠবে নাম-নম্বর, প্রতারণা ঠেকাতে ভারতে নতুন প্রযুক্তি

অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফোনকল শনাক্ত করা এবং টেলিফোনে প্রতারণা কমাতে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ভারত সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে মোবাইল ফোনে কলদাতার নাম ও নম্বর দেখানোর ব্যবস্থা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন এ ব্যবস্থা চালু হলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল সম্পর্কে আগেই ধারণা পাবেন গ্রাহকেরা। এতে প্রতারণামূলক ফোনকল শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে।

ভারতের এ উদ্যোগের নাম ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (সিএনএপি)। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে ফোন আসার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কলদাতার নাম ও নম্বর দেখানো হবে। তবে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্কে এ সুবিধা চালুর বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।

নতুন নিয়মে ফোনের কন্ট্যাক্টসে কোনো নম্বর সংরক্ষিত থাকলে আগের মতোই সেই নাম দেখা যাবে। তবে নম্বরটি সংরক্ষিত না থাকলে দেশের ভেতর থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরের গ্রাহকতথ্যে নিবন্ধিত নাম প্রদর্শিত হবে। অন্যদিকে, বিদেশ থেকে কল এলে পর্দায় শুধু ‘আন্তর্জাতিক কল’ লেখা দেখা যাবে।

সিএনএপি ব্যবস্থা চালু করতে টেলিকম অপারেটরগুলোকে গ্রাহকদের নাম ও ফোন নম্বরের তথ্য নিয়ে ডেটাবেস তৈরি, পরিচালনা এবং নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। কোনো গ্রাহকের কাছে কল এলে তার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ওই ডেটাবেস থেকে কলদাতার নাম সংগ্রহ করে ফোনের পর্দায় দেখাবে।

তবে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থা তৈরিতে ‘সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। কল শেষ হওয়ার পর কোয়ারি-রেসপন্স পদ্ধতিতে কলদাতার নাম সংরক্ষণ করা যাবে না। এ ছাড়া ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেস্ট্রিকশন’ (সিএলআইআর) সুবিধা ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। অর্থাৎ, যারা এ সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন, তাদের নাম কল গ্রহণকারীর ফোনে দেখানো হবে না।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং একাধিক মোবাইল সংযোগ ব্যবহারকারীদের জন্য নিবন্ধিত নামের পরিবর্তে পছন্দের নাম প্রদর্শনের সুযোগও রাখা হতে পারে। তবে সেই নাম ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রিতে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক অথবা পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) পোর্টালে নথিভুক্ত ব্যবসায়িক নাম হতে হবে। এ ক্ষেত্রে নামের সত্যতা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর পর এ পরিষেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (ট্রাই) দেওয়া সুপারিশও ডিওটির নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ২০২৫ সালের অক্টোবরে সিএনএপি পরিষেবা চালুর বিষয়ে ডিওটির প্রস্তাবে সম্মতি দেয় ট্রাই।

মূলত ফোনে নম্বর সংরক্ষিত না থাকলেও টেলিকম অপারেটরের কাছে নিবন্ধিত তথ্যের ভিত্তিতে কলদাতাকে শনাক্ত করাই এ ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য। ভারত সরকারের আশা, এর ফলে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল সম্পর্কে গ্রাহকেরা সহজেই ধারণা পাবেন এবং ফোনকলের মাধ্যমে প্রতারণার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা মিলবে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: