১৩ বছর বসয়ী কে এই “নেক্সট ইলন মাস্ক” জৈনম
মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথম ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেওয়া। সেখান থেকেই ব্যবসা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হয় জৈনের। ভারতের পুনেতে জন্ম তাঁর। পাঁচ বছর বয়সের দিকে পরিবারের সঙ্গে চলে যান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। বাবা-মায়ের উৎসাহে ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় এবং নিজের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন তিনি।
মাত্র সাত বছর বয়সে ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ইউটিউব চ্যানেল। প্রথমে খেলনার আনবক্সিং, পরে বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি করতেন জয়নম জৈন ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শকসংখ্যা। স্কুল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকেও আমন্ত্রণ পেতে থাকেন বিজ্ঞান প্রদর্শনী এবং বক্তব্য দেওয়ার জন্য।
জৈনমের শিক্ষাজীবনও ছিল ব্যতিক্রমী। প্রচলিত সময়ের আগেই মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি বেছে নেন কেমব্রিজের আইজিসিএসই পদ্ধতি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রায় ১০৫ দিনের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার মাধ্যমে দশম শ্রেণির সমমানের শিক্ষাক্রম শেষ করেন তিনি।
এরপরই তাঁর মনোযোগ আরও বেশি করে ঝুঁকে পড়ে প্রযুক্তি ও উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে। আনুষ্ঠানিকভাবে এআই বিষয়ে কোনো কোর্স না করেও অনলাইন রিসোর্স, ইউটিউব, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিজে নিজে শেখার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন বলে জানিয়েছেন জৈনম।
তাঁর উদ্যোগের নাম ‘মেঙ্গো ইঞ্জিন’—একটি এআই-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য ছোট ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন কাজ সহজ করা। বিপণন কৌশল তৈরি, কনটেন্ট লেখা, সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিক্রয়-সহায়তা এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার মতো কাজে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মে।
জৈনমের ভাষায়, এটি ব্যবসার জন্য একধরনের ‘এআই কো-ফাউন্ডার’। অর্থাৎ, একটি ব্যবসার বিভিন্ন কাজ সমন্বয় ও স্বয়ংক্রিয় করতে সহায়তা করবে প্ল্যাটফর্মটি। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনার সময় উদ্যোগটি পরীক্ষামূলক বা বিটা পর্যায়ে ছিল। জৈনমের দাবি, প্রায় ১০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারের অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। ফলে উদ্যোগটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা থাকলেও এর বাণিজ্যিক সাফল্য, আয় কিংবা বাজারে অবস্থান সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
জৈনমের উদ্যোগের আরেকটি আলোচিত দিক তাঁর অফিসের ঠিকানা। তাঁর নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ১৪১তম তলায় রয়েছে তাঁর অফিস। বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনায় একটি এআই স্টার্টআপ পরিচালনার বিষয়টি তাঁর গল্পকে আরও আলোচনায় এনেছে।
জৈনমকে ঘিরে আলোচনার আরেকটি কারণ, তাঁকে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলে তুলনা করা। বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ইলন মাস্কের উদ্যোগের সঙ্গে মিল খুঁজে অনেকে এমন উপাধি দিচ্ছেন। তবে এই তুলনা মূলত জনপরিসরের আলোচনা; দুজনের অর্জন বা ব্যবসায়িক সাফল্যকে সমতুল্য প্রমাণ করার মতো তথ্য এখনো নেই।
বিভি/ এসআই













মন্তব্য করুন: