• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রেমের কৌশল শিখতে বন্ধু নয়, এআইয়ের দ্বারস্থ হচ্ছে মানুষ!

প্রকাশিত: ২০:২৪, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
প্রেমের কৌশল শিখতে বন্ধু নয়, এআইয়ের দ্বারস্থ হচ্ছে মানুষ!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নির্মিত ছবি

প্রেমের প্রস্তাব কীভাবে দেবেন, প্রথম ডেটে কী কথা বলবেন কিংবা পছন্দের মানুষকে কীভাবে আকৃষ্ট করবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন বন্ধুদের বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। ভারতের বিভিন্ন শহরে পরিচালিত জরিপে উঠে এসেছে, প্রেম ও ডেটিংয়ের নানা পর্যায়ে এআইয়ের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

ডেটিং অ্যাপ গ্লিডেন ও গবেষণা সংস্থা ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, গত ১২ মাসে দিল্লির ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে এআইভিত্তিক কথোপকথন সহকারীর সাহায্য নিয়েছেন। মুম্বাইয়ে এ হার ৪৯ শতাংশ, হায়দরাবাদে ৪৮ শতাংশ এবং বেঙ্গালুরুতে ৪৭ শতাংশ।

দেড় হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত এ জরিপের তথ্য বলছে, ভারতের ডেটিং সংস্কৃতিতে এআইয়ের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। আগে প্রেম কিংবা সম্পর্কের বিষয়ে পরামর্শ নিতে মানুষ বন্ধু ও পরিচিতদের ওপর নির্ভর করতেন। এখন সেই জায়গায় যুক্ত হয়েছে চ্যাটবট।

প্রেমের টিপস দিচ্ছে এআই
পছন্দের মানুষকে আকৃষ্ট করার পাশাপাশি নিজেদের ডেটিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেও এআই ব্যবহার করছেন অনেকে। দিল্লি ও মুম্বাইয়ের ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা গত এক বছরে নিজেদের প্রোফাইলের বিবরণ উন্নত করতে এআইয়ের সাহায্য নিয়েছেন। বেঙ্গালুরুতে এ হার ৩৫ শতাংশ এবং হায়দরাবাদে ২৬ শতাংশ।

সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে লিখিত কথোপকথন আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেও এআইয়ের ওপর নির্ভর করছেন অনেকে। দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ কাজে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্লিডেন ও ইপসোসের আরেকটি জরিপে দেখা যায়, জীবনের কোনো এক সময়ে কাউকে আকৃষ্ট করার কৌশল উন্নত করতে এআই ব্যবহার করেছেন ৬৫ শতাংশ পুরুষ ও ৬০ শতাংশ নারী। প্রথম ডেটের জন্য স্থান কিংবা কার্যক্রম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এআইয়ের পরামর্শ নিচ্ছেন তারা। এ কাজে এআই ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন ৬৪ শতাংশ পুরুষ ও ৬১ শতাংশ নারী।

সম্পর্কের জটিলতা বুঝতেও ভরসা এআই
শুধু প্রেমের শুরু নয়, সম্পর্কের নানা জটিলতা বুঝতেও এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন অনেকে। ডেটিং অ্যাপ আইসলের ৮ হাজার ২৪০ জন শহুরে অবিবাহিত মানুষের ওপর পরিচালিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৫৩ দশমিক ১ শতাংশ নারী নিজেদের অনুভূতি ও সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগের কথা এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেন।

অন্যদিকে, জেনারেশন জেড বা জেন-জি প্রজন্মের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ সম্ভাব্য সঙ্গীর পাঠানো দুর্বোধ্য বার্তার অর্থ বুঝতে এআইয়ের সাহায্য নিয়েছেন।

তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একধরনের দ্বৈত মনোভাবও দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা নিজেরা এআই ব্যবহার করলেও সম্ভাব্য সঙ্গী একই কাজ করলে বিরক্ত বোধ করবেন।

স্থানভেদে এআই নিয়ে ভিন্ন মনোভাব
আইসলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর ৫৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, এআই দিয়ে লেখা বার্তা তারা শনাক্ত করতে পারেন। তবে একই শহরের ৮৮ শতাংশের ধারণা, ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে এআই দিয়ে তৈরি প্রথম বার্তা এড়িয়ে চলা কঠিন হয়ে উঠবে।

দিল্লি ও আশপাশের অঞ্চলের ৪০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতার কাছে বাস্তব ডেটের কথোপকথনের তুলনায় এআইয়ের সঙ্গে আলোচনা বেশি অর্থবহ মনে হয়। বিপরীতে, মুম্বাইয়ের ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ এআইয়ের চেয়ে নিজেদের সহজাত অনুভূতির ওপর বেশি আস্থা রাখেন। পুনের ৪২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, এআইয়ের পরামর্শ তাদের ডেটিংয়ের আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

অন্যদিকে, হায়দরাবাদের ৫৫ শতাংশ মানুষ সম্পাদনা করা হয়নি এমন স্বাভাবিক প্রোফাইল ছবি পছন্দ করেন। ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, এআই দিয়ে তৈরি ছবি দেখলে তারা সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেবেন। কলকাতার ডেটিংপ্রত্যাশীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের বিরোধিতা তুলনামূলক বেশি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে সতর্কতা
এআইয়ের তাৎক্ষণিক পরামর্শ, বিচারহীন পরিবেশ এবং নিরপেক্ষ মনে হওয়ার কারণে অনেকে বন্ধুদের তুলনায় চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আইসলের প্রতিবেদনে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা এআইয়ের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতাকে এবং ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ বিচারহীন পরিবেশকে এর প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত আবেগগত নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর ফলে কল্পনা ও বাস্তবতার সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অবাস্তব প্রত্যাশা, একাকিত্ব, অতিরিক্ত আসক্তি এবং নিজের প্রতি অসন্তুষ্টি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রেমের ক্ষেত্রে এআই কথোপকথনের পরামর্শ দিতে পারে, বার্তা সাজিয়ে দিতে পারে কিংবা প্রথম ডেটের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সম্পর্কের অনুভূতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের নিজস্ব ভূমিকার বিকল্প হতে পারে না প্রযুক্তিটি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: