• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

১০ লাখ ব্যবহারকারীর মাইলফলকে ফ্রিডার, সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

জুয়েল আহমেদ, রংপুর

প্রকাশিত: ০৯:২১, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
১০ লাখ ব্যবহারকারীর মাইলফলকে ফ্রিডার, সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশ্বে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোর আধিপত্য দীর্ঘদিনের। এমন বাস্তবতায় দেশীয় প্রযুক্তি ও নিজস্ব ডিজিটাল পরিসর তৈরির লক্ষ্য নিয়ে রংপুর থেকে যাত্রা শুরু করে ‘ফ্রিডার’। বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর মাইলফলক অর্জন করেছে। তবে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সেবার মান বজায় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

‘স্বাধীনতা উপভোগ করুন ফ্রিডারের মধ্যে’—এই স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশিদের নিজেদের গল্প, সংবাদ, মতামত ও সৃজনশীলতা প্রকাশের জন্য একটি নিজস্ব ডিজিটাল পরিসর তৈরি করা। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করাও তাদের উদ্দেশ্য।

ফ্রিডারের উদ্যোক্তা মো. আখতারুজ্জামান জানান, চলতি বছরের ৭ মে যাত্রা শুরুর পর পাঁচ মাসের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে দেশ-বিদেশের ব্যবহারকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনে ফ্রিডার নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের পর এর পরিচিতি আরও বেড়েছে। বর্তমানে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। প্রতিদিন নতুন করে প্রায় এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ব্যবহারকারী নিবন্ধন করছেন বলেও জানান তিনি।

ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও সার্ভারের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকর রাখতে নিয়মিত প্রযুক্তি উন্নয়ন, পর্যাপ্ত সার্ভার সক্ষমতা এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, অশ্লীলতা পরিহার এবং দেশের সম্মান ও মূল্যবোধ বজায় রেখে ইতিবাচক ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ফ্রিডার। পাশাপাশি, মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আয় করা ব্যবহারকারীদের প্রাপ্য লভ্যাংশ যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে প্ল্যাটফর্মটি।

ফ্রিডারের হেড অব সাপোর্ট রেজাউল করিম বলেন, এটি শুধু রংপুরের একটি উদ্যোগ নয়; বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্যও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ নয়। এসব প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি, উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী নিরাপত্তাব্যবস্থা ও দীর্ঘদিনের অর্জিত আস্থা।

তাঁর মতে, ফ্রিডারকে এগিয়ে নিতে হলে ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রযুক্তির নিয়মিত উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, মানসম্মত কনটেন্ট এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্রিডারের মার্কেটিং প্রধান বাদশা আলম জানান, বাংলাভিশনে প্রতিবেদন প্রচারের পর প্ল্যাটফর্মটির পরিচিতি বেড়েছে। এখন নতুন ও পুরোনো ব্যবহারকারীদের জন্য সেবার মান উন্নত করা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো তাদের অন্যতম লক্ষ্য। ব্যবহারকারীদের আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে পরিকল্পিত প্রচারণা ও উন্নত সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রিডারে ১৫০ টাকায় প্রোফাইল ভেরিফিকেশন এবং ৩০০ টাকায় পেজ ভেরিফিকেশনের সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি নামমাত্র খরচে পোস্ট প্রমোট ও বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ এবং এক হাজার অনুসারী হলেই মনিটাইজেশনের সুবিধা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব সুবিধার মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারী, কনটেন্ট নির্মাতা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি অনলাইনে আয়ের সুযোগ পেতে পারেন।

ফ্রিডারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সহজ করা, নিরাপত্তা জোরদার এবং নতুন সুবিধা যুক্ত করা। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। দেশের ডিজিটাল কর্মকাণ্ড, বিজ্ঞাপন ও অনলাইন ব্যবসার একটি অংশ দেশীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত হলে তা প্রযুক্তি খাত ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

রংপুর নগরীর স্টাফ কোয়ার্টার-সংলগ্ন গঙ্গাচড়া সড়কের পাশে ভাড়া করা একটি ভবনে ফ্রিডারের প্রধান কার্যালয়। উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১৫ জন শিক্ষিত বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

রংপুর থেকে শুরু হওয়া ফ্রিডারের সামনে এখন ব্যবহারকারীদের আস্থা ধরে রাখা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ। ১০ লাখ নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর মাইলফলক অর্জনের পর পরিকল্পিত উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটি কতটা এগিয়ে যেতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত