• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইরানের সঙ্গে লেনদেনে যুক্ত দেশগুলোর ওপরও শুল্করোপের হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশিত: ১৭:০৯, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৭:১০, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানের সঙ্গে লেনদেনে যুক্ত দেশগুলোর ওপরও শুল্করোপের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ওই আদেশে শুল্কের নির্দিষ্ট হার উল্লেখ করা হয়নি। তবে, উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, কোনো দেশ যদি “প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি কিংবা অন্য কোনোভাবে গ্রহণ করে”, তাহলে সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

ট্রাম্প সরাসরি এ নির্বাহী আদেশ নিয়ে মন্তব্য না করলেও শুক্রবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি পুনরায় বলেন, “ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকা চলবে না।”

এই আদেশ এমন এক সময়ে জারি হলো, যখন ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এ আলোচনা শুরু হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।

১২ জানুয়ারি দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “এই মুহূর্ত থেকে কার্যকর- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে এমন যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করবে।”

তবে সে সময় বাস্তবে এই শুল্ক কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সর্বশেষ এই নির্বাহী আদেশটি ইরানসংক্রান্ত ‘চলমান জাতীয় জরুরি অবস্থা’ পুনর্ব্যক্ত করেছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে আদেশটি সংশোধন করতে পারবেন বলেও জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, “পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা, সন্ত্রাসবাদে সমর্থন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য প্রেসিডেন্ট ইরানকে দায়বদ্ধ করছেন—যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, মিত্রদেশ ও জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ।”

এদিকে আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছে, ইরান থেকে উৎপত্তি হওয়া অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য বা পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত এমন ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, দেশটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির আরোপিত ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, যা মূলত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপ করা হয়েছে।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তারা বারবার অস্বীকার করে এসেছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: