• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৩১, ইসলামাবাদে হাজারো মানুষের শোক

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৭:২৪, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৩১, ইসলামাবাদে হাজারো মানুষের শোক

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মুসলিম মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩১ জনের দাফন কার্যক্রম শুরু করতে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) হাজারো শোকাহত মানুষ জড়ো হন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা শঙ্কা প্রকাশ করেন, সামনে আরও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা ইমামবাড়াহ প্রাঙ্গণে এক ব্যক্তি প্রথমে গুলি চালান, পরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটান। এতে হামলাকারী নিজেসহ মোট ৩১ জন নিহত হন এবং আহত হন ১৭০ জনেরও বেশি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মসজিদের কাছে একটি খোলা স্থানে কয়েকজন নিহতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা চলাকালে পুলিশ ও এলিট কমান্ডো ইউনিটের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। শোকাহতরা বুক চাপড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কফিন কাঁধে তুলে কবরস্থানের দিকে এগিয়ে যান।

জানাজা পরিচালনাকারী ইমাম শোকাহতদের উদ্দেশে বলেন, “যে বা যারা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, আল্লাহ যেন তাদের জাহান্নামে পুড়িয়ে ছাই করে দেন।”

সাধারণত কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা ইসলামাবাদে বোমা হামলা বিরল হলেও, গত তিন মাসে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। দেশে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান বড় শহরগুলোতে আবারও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, এই হামলার পেছনে জড়িত সহায়তাকারী ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজন এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলাকারীর আফগানিস্তানে যাতায়াতের ইতিহাস ছিল। একই সঙ্গে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি প্রতিবেশী ভারতকে এই হামলার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য দায়ী করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মসজিদ হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলার সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি জানায়, “নিজেদের সামাজিক কাঠামোয় বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান যদি নিজস্ব সমস্যার দায় অন্যের ওপর চাপায়, তা দুর্ভাগ্যজনক।”

২৪১ মিলিয়ন জনসংখ্যার মুসলিম-অধ্যুষিত পাকিস্তানে শিয়ারা একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। অতীতে তারা একাধিকবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব হামলার সঙ্গে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং সুন্নি জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের নামও জড়িত ছিল।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: