• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৩০ বছর জেল খেটেছেন নিরপরাধ পুলিশ সদস্য, নির্দোষ ঘোষণার পরদিনই মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৯:২৬, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
৩০ বছর জেল খেটেছেন নিরপরাধ পুলিশ সদস্য, নির্দোষ ঘোষণার পরদিনই মৃত্যু

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নির্মিত ছবি

২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ৩০ বছর জেল খেটেছেন ভারতের পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই প্রজাপতি। তবে অবশেষে আদালতে প্রমাণ হয়েছে, তিনি নির্দোষ। আর সেই রায় শোনার পরদিনই তার জীবনের ইতি ঘটেছে।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে গুজরাটের আহমেদাবাদে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০ রুপি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।

১৯৯৭ সালে সেশনস কোর্টে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০০২ সালে অভিযোগ গঠন হয়। ২০০৩ সালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পরের বছর সেশনস কোর্ট প্রজাপতিকে চার বছরের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

সেশনস কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে প্রজাপতি গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর তার আপিল ২২ বছর ধরে ঝুলে থাকে। অবশেষে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ে তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।

আদালত জানায়, সাক্ষীদের বয়ানে গুরুতর অসঙ্গতি ছিল এবং অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে। প্রজাপতির পক্ষে আইনজীবী নীতিন গান্ধী হাইকোর্টে বলেন, পুরো মামলাটি ছিল কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে দাঁড় করানো।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি গুজরাট হাইকোর্ট তাকে নির্দোষ ঘোষণা করার পর বাবুভাই বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন যদি ঈশ্বর আমাকে তুলে নেন, তবুও আমার কোনো আক্ষেপ থাকবে না।’

রায় ঘোষণার পর আইনজীবীর কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলেন বাবুভাই। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে যান। পরদিনই হৃদরোগে মৃত্যু হয় তার।

তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন, তিনি যদি আর কিছুদিন বেঁচে থাকতেন, তবে সেটিই হতো প্রকৃত আনন্দের বিষয়।

আইনজীবী জানান, ‘গতকাল যখন তিনি অফিসে এসেছিলেন, তখন তিনি ভীষণ খুশি ছিলেন, কারণ তিনি খালাস পেয়েছিলেন। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘কাকা, আপনি সরকারের কাছ থেকে যে সব সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সেগুলোর জন্য আবেদন করা উচিত।... পরের দিন আমি তাকে আবার ফোন করি, তখন জানতে পারি তিনি হৃদরোগে মারা গেছেন।’

সূত্র: এনডিটিভি

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: