বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন যেভাবে উঠে এলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে
বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও দলীয় প্রার্থিদের উচ্ছ্বাস, অভিযোগ ও উৎকণ্ঠা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। দিনের শুরু থেকেই বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, আল জাজিরার মতো বিশ্ব গণমাধ্যম জুলাই বিপ্লবকে সামনে এনে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরুত্থান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। যদিও ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরিবেশ, দলীয় প্রার্থিদের প্রতিশ্রুতি, অভিযোগসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তুলে ধরছে। জুলাই গণআন্দোলন, শেখ হাসিনা ছাড়া জাতীয় নির্বাচন, গণতন্ত্রের পরিবেশ, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার, সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতের নির্বাচনে অংশগ্রহণের মতো বিষয় এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদ বিবিসি বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী -প্রধান এই দুটি দলের অংশগ্রহণকে সামনে এনে সাধারণ জনগনের স্বতস্ফূর্ত ভোটদান তুলে ধরেছে বিবিসি।
'জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ঐতিহাসিক নির্বাচন' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অপর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আয়োজিত এ নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম সুষ্ঠু ও স্বতস্ফূর্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে ফিরে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারেক রহমানের দুর্নীতিমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিকেও গুরুত্বসহকারে প্রচার করেছে এই ব্রিটিশ গণমাধ্যম।
কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে লাইভ আপডেট দিচ্ছে। এই নির্বাচনকে ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বর্ণনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছে নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির অংশগ্রহণ।
'জেন-জি প্রজন্মের বিজয়, নির্বাচনে পুরনো শক্তির আধিপত্য বিস্তার', এই শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন স্বৈরশাসকের পতনের পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভোটগ্রহণ হচ্ছে। একটি সুষ্ঠু ও কারচুপিবিহীন নির্বাচন আয়োজনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে তরুণ প্রজন্ম।
শেখ হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভের পর বাংলাদেশে কয়েক মাস ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ছিলো। আর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হবে, - এমন আশা প্রকাশ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবকে সামনে এনে ভোটাভুটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনও।
তবে ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছে। বিভিন্ন বুথে ধস্তাধস্তি, নেতার মৃত্যু, বিস্ফোরণের তথ্য অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরেছে আনন্দবাজার, ইন্ডিয়া টুডের মতো গণমাধ্যমে। এছাড়া বাংলাদেশের ৫০ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে দাবি করেছে সংবাদ মাধ্যম হিন্দু।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: