লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩ জনের প্রাণহানি
লিবিয়ার উপকূলের কাছে ভূমধ্যসাগরে একটি নৌকা ডুবে গিয়ে ৫৩ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)। মাত্র দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আইওএম জানায়, শুক্রবার জুয়ারার উত্তরে নৌকাটি উল্টে যায়। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় বিপজ্জনক ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণহানির এটি সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনা।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ পরিচালিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে কেবল দুইজন নাইজেরীয় নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।” আরও জানানো হয়, জীবিতদের একজন তার স্বামীকে এবং অন্যজন তার দুই শিশুসন্তানকে এই দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন।
আইওএমের পক্ষ থেকে বলা হয়, তীরে পৌঁছানোর পর উদ্ধার হওয়া দুজনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বর্ণনা অনুযায়ী, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থী বহনকারী নৌকাটি ৫ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ১১টার দিকে লিবিয়ার আল-জাওইয়া থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকে সেটি ডুবে যায়। মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রাণহানির আরেকটি ঘটনায় সংস্থাটি গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
জেনেভাভিত্তিক এই সংস্থাটি জানায়, উত্তর আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ ইউরোপে যাওয়ার পথে মানবপাচার ও চোরাচালান চক্রগুলো অভিবাসীদের শোষণ করছে। সমুদ্রযাত্রার উপযোগী নয়—এমন ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় বিপজ্জনক যাত্রার মাধ্যমে তারা মুনাফা করছে এবং মানুষকে চরম নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আইওএম এসব চক্র মোকাবিলায় জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনপথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ঝুঁকি কমানো ও প্রাণ রক্ষা করা যায়। সংস্থাটির আশঙ্কা, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে, ইউরোপিয়ান কমিশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে বৈধ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনপথ গড়ে তুলতে ব্রাসেলস কাজ করছে। তিনি এএফপিকে বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করে যে, লিবিয়াসহ অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টা জোরদার করা জরুরি—যাতে এ ধরনের বিপজ্জনক যাত্রা প্রতিরোধ করা যায় এবং জীবন ঝুঁকিতে ফেলা মানবপাচার চক্রগুলোকে দমন করা সম্ভব হয়।”
আইওএমের ‘নিখোঁজ অভিবাসী প্রকল্প’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে ৩৩ হাজারের বেশি অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।
গত বছর সংস্থাটি ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৮৭৩ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৩৪২ জনই মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: