• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের গোপন নথি মামলার প্রতিবেদন প্রকাশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ১১:২০, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ট্রাম্পের গোপন নথি মামলার প্রতিবেদন প্রকাশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গোপন নথি সংরক্ষণ–সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলার প্রসিকিউটরের প্রতিবেদন প্রকাশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এক মার্কিন বিচারক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক আদেশে বিচার বিভাগকে এ প্রতিবেদন প্রকাশ না করার নির্দেশ দেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ফ্লোরিডাভিত্তিক মার্কিন জেলা বিচারক আইলিন ক্যানন রায়ে বলেন, মামলাটি কখনো জুরি বোর্ড পর্যন্ত গড়ায়নি। ফলে এ অবস্থায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে তা ট্রাম্প ও তার সঙ্গে অভিযুক্ত দুই সহযোগীর প্রতি “স্পষ্ট অন্যায়” হবে। প্রতিবেদনে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ক্যাননকে ২০২০ সালে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেন ট্রাম্প। ২০২৪ সালে তিনি এ মামলার সব অভিযোগ খারিজ করে দেন।

বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথের করা মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত নথি, যার মধ্যে আমেরিকার পারমাণবিক কর্মসূচি–সম্পর্কিত তথ্যও ছিল, সেগুলো তার মার-আ-লাগো সামাজিক ক্লাবে অবৈধভাবে সংরক্ষণ করেছিলেন এবং সেগুলো উদ্ধারে মার্কিন সরকারের প্রচেষ্টায় বাধা দিয়েছিলেন।

ক্যানন রায়ে বলেন, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনামলে বিচার বিভাগ স্মিথকে আইনসম্মতভাবে নিয়োগ দেয়নি। সোমবারের রায়ে ক্যানন লেখেন, “অভিযোগ দায়েরের পর কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ ন্যায্যতা ও বিচারপ্রক্রিয়ার মৌলিক ধারণার পরিপন্থী হবে।” এই আদেশের ফলে, ট্রাম্প ক্ষমতার বাইরে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি ফৌজদারি মামলার একটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ নাও হতে পারে।

ট্রাম্পের আইনজীবী কেন্দ্রা হোয়ার্টন এক বিবৃতিতে ক্যাননের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “স্মিথের বিষাক্ত বৃক্ষের কোনো ফলই কখনো আলোর মুখ দেখা উচিত নয়।”

ট্রাম্প এবং তার দুই সহ-আসামি— ব্যক্তিগত সহকারী ওয়াল্ট নাউটা ও মার-আ-লাগোর ব্যবস্থাপক কার্লোস দে অলিভেইরা— সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং বলেন, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মার্কিন বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার। তারা স্মিথ কেন অভিযোগ আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা ব্যাখ্যা করা ওই প্রতিবেদন প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিচার বিভাগও এ যুক্তিকে সমর্থন করে জানায়, প্রতিবেদনটি একটি গোপন নথি।

সরকারি জবাবদিহিতা সংস্থা আমেরিকান ওভারসাইটের নির্বাহী পরিচালক কিওমা চুকু বলেন, “বিচারক ক্যাননের এ রায় প্রেসিডেন্টকে জনসমালোচনা থেকে আড়াল করা এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপর গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার এক উদ্বেগজনক ধারাবাহিকতার অংশ।” ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা প্রত্যাহার করে নেয়।

রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল তদন্ত পরিচালনার জন্য নিয়োজিত বিশেষ কৌঁসুলিদের তাদের সিদ্ধান্ত— অভিযোগ আনা হবে কি না— সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। প্রায় ১৩ মাস আগে ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে, বিচার বিভাগ স্মিথের আরেকটি— পরবর্তীতে খারিজ হওয়া— মামলার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয় উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর আগে ক্যানন নাউটা ও দে অলিভেইরার বিরুদ্ধে চলমান মামলার কথা উল্লেখ করে নথি–সংক্রান্ত মামলার প্রতিবেদন কংগ্রেসে প্রকাশে বাধা দিয়েছিলেন। পরে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর বিচার বিভাগ নাউটা ও দে অলিভেইরার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করে।

সোমবারের রায়ে ক্যানন গোপন গ্র্যান্ড জুরি–সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ নিয়ে উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, তাকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল— এমন আদেশ থাকা সত্ত্বেও স্মিথ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তার নির্দেশ এড়িয়ে গেছেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত