• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে ইউক্রেন! (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৫:০৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ

রাশিয়ার সাথে চলমান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবার তুরুপের তাস হাতে নিতে চাইছে ইউক্রেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সরাসরি সহায়তায় ইউক্রেন গড়ে তুলছে নতুন এক পরমাণু পরিকল্পনা, যা পাল্টে দিতে পারে পুরো ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্য।

২৪ ফেব্রুয়ারি এমনই এক বিস্ফোরক দাবি তোলে রাশিয়া। রাশিয়ার বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআর এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ সামনে এনেছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

মস্কোর দাবি, কিয়েভকে ‘বিশেষ অস্ত্র’ দিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তিতে অনুকূল অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। এসভিআর এক বিবৃতিতে জানায়, লন্ডন ও প্যারিস মনে করছে পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক শর্ত আদায় করতে পারবে। যদিও এ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।  

এসভিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে লন্ডন ও প্যারিস ইউক্রেনকে এ ধরনের অস্ত্র ও তার বাহনব্যবস্থা সরবরাহের বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে ইউক্রেনে গোপনে ইউরোপীয় উপাদান, সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর একটি হলো ফরাসি টিএন৭৫ কমপ্যাক্ট ওয়ারহেড। এটি এম৫১.১ সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমা দেশগুলোর মূল চেষ্টা হলো কিয়েভে পারমাণবিক অস্ত্রের আবির্ভাবকে যেন ইউক্রেনের নিজস্ব উন্নয়ন হিসেবে দেখানো যায়। রুশ এই গোয়েন্দা সংস্থা প্যারিস ও লন্ডনের বিরুদ্ধে ‘বাস্তববোধ হারানোর’ অভিযোগ তুলেছে। রাশিয়ার উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিল ব্রিটিশ ও ফরাসি আইনপ্রণেতাদের প্রতি এই পরমাণু অস্ত্র-সম্পর্কিত দাবির বিষয়ে তদন্ত চালু করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে রাশিয়ার এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন। এক প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেন এই অভিযোগকে রাশিয়ার পুরোনো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার অংশ বলে উল্লেখ করে। মস্কোর এই দাবিকে ‘অবান্তর’ বলে আখ্যা দিয়েছে কিয়েভ।

এদিকে ইউক্রেনকে পরমাণু অস্ত্র সরবরাহ করা হলে রাশিয়া পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স কিয়েভকে পারমাণবিক ওয়ারহেড দিলে তা সরাসরি যুদ্ধরত একটি দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র তুলে দেয়ার শামিল হবে, যার জবাবে রাশিয়া ‘নন-স্ট্র্যাটেজিক’ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথেও যেতে পারে।

আলাদা এক বিবৃতিতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা বৈশ্বিক পারমাণবিক বিস্তাররোধ ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে ইউরোপ মহাদেশে চলমান উত্তপ্ত সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

চলতি বছরে রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তিনবার বৈঠকে বসেছেন। কিন্তু কোনো পক্ষই ভূখণ্ড-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সমঝোতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাগুলো এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত