• NEWS PORTAL

  • সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ইরানে কেন এই সামরিক হামলা, কারণ জানালেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ১৩:০৭, ২ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানে কেন এই সামরিক হামলা, কারণ জানালেন ট্রাম্প

চলমান আলোচনার মধ্যেই হঠাৎ ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় মারা গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে এই যুদ্ধে তিন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার ঘটনার পর, তিনি আরও হতাহতের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, এটি (যুদ্ধ) শেষ হওয়ার আগেই আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।’

ফ্লোরিডায় নিজের মার-আ-লাগো আবাসন থেকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেবে এবং যারা মূলত সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছে, সেই সন্ত্রাসীদের ওপর সবচেয়ে কঠোর আঘাত হানবে।’

শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে সরাসরি ভাষণ দেননি। 

তবে তিনি দুটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেননি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইরানের ওপর হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি মেইলকে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সব সময়ই চার সপ্তাহের প্রক্রিয়া ছিল। আমরা ভেবেছিলাম চার সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময় লাগবে।’

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমরা যে ধরনের বিরাট সাফল্য পাচ্ছি, তা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। এক আঘাতে ৪৮ নেতা নিহত হয়েছে এবং এই সাফল্য দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।’

এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, আমরা হতাহতের আশঙ্কা করছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি বিশ্বের জন্য বড় একটি সাফল্য হবে।যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপক অভিযান শুরু করেছি শুধু আমাদের বর্তমান সময় ও স্থানের নিরাপত্তার জন্য নয়, আমাদের সন্তান ও তাদের সন্তানদের নিরাপত্তার জন্যও এই অভিযান।’

তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপগুলো সঠিক ও প্রয়োজনীয়, যাতে আমেরিকানদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ও নানান হুমকিতে সজ্জিত কোনো উগ্র বা রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী শাসনের মুখোমুখি হতে না হয়।’

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে লিখেছেন, ‘আমাকে জানানো হয়েছে যে আমরা ইরানের নৌবাহিনীর ৯টি জাহাজ ধ্বংস ও ডুবিয়ে দিয়েছি, যার কিছু ছিল তুলনামূলকভাবে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও লেখেন, আমরা বাকি জাহাজগুলোর দিকেও এগোচ্ছি এবং শিগগিরই সেগুলোও সমুদ্রের তলায় থাকবে!’

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল নেটওয়ার্কে আরও লেখেন, পৃথক আরেকটি হামলায় আমরা তাদের নৌ সদর দপ্তরও ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছি।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা— পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।

দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিন ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে জানায়, ইরানের নেতারা ‘আলোচনা করতে চায় এবং আমি আলোচনায় সম্মত হয়েছি, তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। তাদের আগেই এটি করা উচিত ছিল।’

তবে তিনি বলেন, তাদের অধিকাংশই এখন আর জীবিত নেই।

সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বিশ্বের জন্যও কাজ করছি এবং সবকিছুই সময়সূচির আগেই এগোচ্ছে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে পরিস্থিতি খুবই ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে।’

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত