মোজতবা খামেনির নির্দেশে ইসরাইলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো ইরান
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আজ সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর এটিই তার শাসনামলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ। এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিল।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল তাকে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার হুমকি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর এই সংবাদ জানিয়েছে।।
মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য শিয়া ধর্মগুরুরা একত্রিত হন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ঘোষক ৫৬ বছর বয়সী নতুন নেতার ছবির পাশে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদের একটি বিবৃতি গুরুত্ব সহকারে পড়ে শোনান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্বে বসানোর জন্য প্রতিনিধিদের ভোটের ভিত্তিতেই মোজতবা খামেনিকে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার শীর্ষ নেতৃত্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন ও ঘোষণা করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘অপরাধী আমেরিকার নৃশংস আগ্রাসন এবং দুষ্ট ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার’ নির্মম আগ্রাসন সত্ত্বেও, ধর্মীয় সংস্থা ‘এক মিনিটের জন্যও নতুন নেতা নির্বাচন করতে দ্বিধা করেনি।’
এর কিছুক্ষণ পরেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ইসরাইলে নিক্ষেপ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেখানো হয়, যেখানে ‘আপনার আদেশে, সাইয়্যেদ মোজতবা’ স্লোগান লেখা ছিল, যা ইসলামী সম্মানসূচক।
আজ ভোরে কাতারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এখানে একটি প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটি অবস্থিত।
এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে। সেই দমনকার্যে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য রয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই মোজতবা খামেনিকে নতুন নেতা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি তার পিতার মতোই কঠোর অবস্থান নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে মোজতবা খামেনিকে ‘অযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং গতকাল রোববার আবারও জোর দিয়ে বলেন, যে নতুন নেতা নিযুক্ততে তার ভূমিকা থাকা উচিত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবিসি নিউজকে বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যদি তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশি দিন টিকে থাকতে পারবেন না।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নতুন নেতাকে সতর্ক করে বলেছে, ‘আমরা আপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে কোনো দ্বিধা করব না।’
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: