হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কিছুটা ছাড় দেওয়া মনোভাব পোষণ করে ইরান সরকার। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
চিঠিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিকে যেন কোনো আগ্রাসী শক্তি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য ব্যবহার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে যেসব জাহাজ ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচিত হবে, তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদে এই প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে।
ইরান আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং চলমান সংঘাতে তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে এসব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ এই সুবিধার আওতায় পড়বে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ইরানের এই চিঠির অনুলিপি ইতোমধ্যে আইএমও’র সব সদস্য দেশের কাছে পৌঁছেছে।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। প্রতিদিন বিশ্বে পরিবাহিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ কারণেই হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জাহাজগুলোর ক্রুদের সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে এবং কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে এক ডজনের বেশি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহত মানুষের সংখ্যা। ইরান, ইসরাইল এবং লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক হামলায় বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ধ্বংস হচ্ছে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। আহতদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মানবিক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করছে, হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনো স্থায়ী সমাধানের কোনো লক্ষণ স্পষ্ট নয়।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: