টোঙ্গায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত, উপকূল ছাড়ার নির্দেশ
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গার কাছে ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের পরপরই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। এএফপির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার গভীরে। সাধারণত গভীর ভূমিকম্পের প্রভাব তুলনামূলক কম তীব্র হয়, তাই ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও তুলনামূলকভাবে কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সমুদ্রের গভীরে, যা টোঙ্গার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নিয়াফু থেকে প্রায় ১৫৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে টোঙ্গার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিস নিচু দ্বীপ ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু স্থান বা নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্থানীয়দের সমুদ্র সৈকত, তীরবর্তী অঞ্চল এবং নিচু এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইউএসজিএস এ অঞ্চলের জন্য কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করেনি। হাওয়াইভিত্তিক প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টারও জানিয়েছে, এই ভূমিকম্প থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
১৭১টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত টোঙ্গায় প্রায় এক লাখ মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই প্রধান দ্বীপ টোঙ্গাটাপুতে বাস করেন। ভূমিকম্পটি ভাভাউ দ্বীপপুঞ্জের কাছে বেশি অনুভূত হয়েছে।
রাজধানী নুকুয়ালোফার একটি সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলের এক কর্মী জানান, ভূমিকম্পের সময় পুরো ভবন কেঁপে উঠলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় টোঙ্গা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পড়ে। ২০২২ সালে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে সৃষ্ট সুনামিতে দেশটিতে তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
নিউজিল্যান্ড থেকে প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ঘটনায় প্রতিবেশী দেশগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে নিউজিল্যান্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের উপকূলে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভূমিকম্প একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও প্রতিটি বড় মাত্রার কম্পনকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। টোঙ্গার মতো ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকায় দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি বড় ভূমিকা রাখে। এ ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: