• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

তেলআবিবের আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে কাক উড়ছে কেন? ঘুম হারাম ইসরাইলিদের!

প্রকাশিত: ২২:৩৭, ২৬ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ২২:৫২, ২৬ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ

হাজার হাজার কালো কাকের বিশাল ঝাঁকে ঢেকে গেছে ইসরাইলের তেলআবিবের আকাশ। যুদ্ধের মাঝেই দেখা গেছে এমন অদ্ভুত-ভয়ঙ্কর দৃশ্য। এটি কি শুধুই প্রকৃতির স্বাভাবিক আচরণ, নাকি কোনো অজানা সংকেত? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরইমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে নানা ব্যাখ্যা। কেউ বলছেন অশুভ লক্ষণ, আবার কেউ তুলনা করছেন কোরআনে বর্ণিত আবাবিল পাখির সাথে। বাস্তবতা আর রহস্যের মাঝামাঝি এই ঘটনার পেছনের সত্যটা কী?.

আবাবিল পাখি নয়, ইসরাইলের আকাশ ছেয়ে গেছে হাজার হাজার কালো কাকে! ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের মাঝেই তেল আবিবের আকাশে এই রহস্যময় ও গা ছমছমে দৃশ্য দেখা গেছে। কালো কালো কাকের বিশাল ঝাঁক শহরের আকাশ ঢেকে ফেলেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা এবং নেটদুনিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেকেই এই ঘটনাকে কোনো ভয়াবহ বিপদের সংকেত হিসেবে দেখছেন। অনেকে আবার একে তুলনা করছেন কোরআনে বর্ণিত আবাবিল পাখির সাথে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিতে দেখা গেছে, তেল আবিবের আকাশ আক্ষরিক অর্থেই কালো হয়ে গেছে। ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল কাকের ঝাঁক শহরটির ওপর দিয়ে এমনভাবে উড়ছিল যেন তারা কোনো কিছুর আগাম বার্তা দিচ্ছে। সাধারণত শীতের মৌসুমে পূর্ব ইউরোপ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে কাক বা ওই জাতীয় পাখি ইসরাইলের মতো উষ্ণ অঞ্চলের দিকে আসে। তবে এবারের সংখ্যা এবং সময়টি স্থানীয়দের মনে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে কাক বা শকুন জাতীয় পাখিকে অনেক সময় ‘হারবিঞ্জার অফ ডুম’ বা ধ্বংসের বার্তাবাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দ্য নিউজ-এর তথ্যমতে, অনেক লোকগাথায় কাকের এমন অস্বাভাবিক জমায়েতকে যুদ্ধ, মহামারী বা বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়। বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সাধারণ মানুষের মাঝে এই ধারণাটি প্রবল হয়েছে যে, এটি হয়তো আসন্ন কোনো ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সংকেত।

তেল আবিবের বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইকোনমিক টাইমস জানাচ্ছে, অনেক ইসরাইলি একে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে দেখলেও, একটি বড় অংশ একে ‘অশুভ লক্ষণ’ হিসেবে মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই একে আধ্যাত্মিক বা ঐশ্বরিক সতর্কবাণী হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন। ‘প্রাইম টাইমার’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু মানুষ একে কনস্পিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সাথেও মেলাচ্ছেন, যেখানে বলা হচ্ছে পাখিরা হয়তো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আসন্ন কোনো হামলার আঁচ করতে পেরেছে।

নেটিজেনদের অনেকেই একে তুলনা করছেন কোরআনে বর্ণিত আবাবিল পাখির সাথে। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী মহানবী (স) এর জন্মের কিছু দিন আগে বিশাল হাতির বাহিনী নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে আসে ইয়েমেনের তৎকালীন গভর্নর আব্রাহা। কিন্তু তার বাহিনী মক্কায় প্রবেশ করলে অলৌকিকভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবীল পাখি এসে তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করে আর কাবা রক্ষা করে। তাই সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনার সাথে জুড়ে দিচ্ছেন ইসরাইলের কাকগুলো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত পাখিদের একটি স্বাভাবিক আচরণ যাকে ‘মারমারেশন’ বলা হয়। খাদ্য এবং নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বা কোনো শিকারি প্রাণীর হাত থেকে বাঁচতে তারা এভাবে দলবদ্ধ হয়ে ওড়ে। এছাড়া শহরের কৃত্রিম আলো ও উত্তাপও অনেক সময় পাখিদের আকৃষ্ট করে। ইরানের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রভাবেও কাকেদের এমন অস্বাভাবিক আচরণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিজ্ঞান ও যুক্তি যাই বলুক না কেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থির সময়ে হাজার হাজার কাকের এই দৃশ্য ইসরাইলিদের মনে এক অজানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। প্রকৃতির এই আচরণ নিছকই কাকতালীয় নাকি সত্যিই কোনো দুর্যোগের আভাস, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত এই দৃশ্য তেলআবিবের আকাশকে এক রহস্যময় অন্ধকারে ঢেকে রেখেছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন: