টমাহক নিয়ে উদ্বেগে পেন্টাগন—দ্রুত শেষ হচ্ছে স্টক!
ছবি: টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র
চলমান ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারে দ্রুত ঘাটতি দেখা দিচ্ছে—বিশেষ করে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র চার সপ্তাহের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতো বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং এটি এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে সমস্যা হলো—বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হয়। ফলে বিশ্বজুড়ে এই অস্ত্রের সরবরাহ সীমিত এবং দ্রুত মজুত পূরণ করাও সহজ নয়।
পেন্টাগন কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহকের সংখ্যা এখন ‘চিন্তার বিষয়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে খুব দ্রুতই অস্ত্রভান্ডার ফুরিয়ে যেতে পারে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা এখন ‘উইনচেস্টার’-এর কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছেন—যা সামরিক পরিভাষায় গোলাবারুদ বা অস্ত্রশস্ত্র প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার সংকেত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তবে প্রতিটি টমাহকের সর্বোচ্চ মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার, এবং এটি তৈরি হতে সময় লাগে প্রায় দুই বছর। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়াতে ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে পেন্টাগন।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড-এর মোট মজুতের এক তৃতীয়াংশের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, থাডের কয়েকটি রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এখন তাদের লক্ষ্য হতে পারে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ধ্বংস করা। সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
বিভি/এমআর



মন্তব্য করুন: