লেবাননে এক মাসে বাস্তুচ্যুত ১০ লক্ষাধিক মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
চলতি মাসে লেবাননে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। যা দেশটির মোট জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও বেশি। ইসরাইলি হামলার ভয়ে তারা ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কেউ পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু গেড়েই বসবাস শুরু করেছেন। অনেকে আবার স্কুল ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে খুঁজছেন ঠাঁই।
দেশটির বেশকিছু অঞ্চলের চিত্রটা অনেকটা এমন— নিজ ঘরের মায়া কাটিয়ে অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। মাটিতে তাঁবু খাটিয়ে কোনোমতে পার করছেন একের পর এক রাত। জানা নেই- কবে ফিরতে পারবেন নিজের ঘরে, কিংবা আদৌ অক্ষত আছে কিনা প্রিয় বাড়িটি। এটিই এখন লেবাননের লাখ লাখ মানুষের নির্মম বাস্তবতা।
মূলত, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে এখন নিয়মিতই চলছে ইসরাইলি অভিযান। হামলার আগে সতর্কতা জারির মাধ্যমে ঘরছাড়া করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জীবন বাঁচাতে তারা ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।
পরিবার নিয়ে অনেকের ঠাঁই হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র ও স্কুলগুলোতে। কেউ কেউ আবার গাড়িতে বসেই কাটাচ্ছেন একেকটা দিন। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন সহজেই।
দেশটির রাজধানীর শহরতলীতে থাকা একজন বলেন, 'আমি বৈরুতের কাছের এই এলাকায় গাড়ির ভেতরেই রাত কাটাই। সারাদিন বসে থাকা আর গাড়ি চালানোর কারণে পিঠে তীব্র ব্যথা হচ্ছে, পা দুটোও যন্ত্রণায় কাতর। আমাকে ওষুধ দেবে কে? কেউ তো কোনো সাহায্যই করছে না।'
আরেকজন বলেন, 'দু'দিন ধরে এখানে আছি। এর আগে একটা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম, কিন্তু পরিবার নিয়ে সেখানে থাকা খুব কঠিন- টয়লেটের জন্য লাইন, গরম পানিরও ব্যবস্থা নেই। ১০ দিন ধরে ঠিকমতো গোসল করতে পারিনি। এখানেও কোনো সুবিধা নেই- গরম পানি, টয়লেট কিছুই না।'
এমন চরম দুর্ভোগের মাঝে বৃষ্টি আর ঠান্ডা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। হুটহাট চলে আসা বৃষ্টির কারণে কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। শিশুদের নিয়ে জীবনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন লেবাননের মায়েরা।
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: