• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নতুন শক্তি অর্জন উত্তর কোরিয়ার, হাই-থ্রাস্ট মিসাইল পরীক্ষা করলেন কিম জং উন

প্রকাশিত: ১৩:২১, ২৯ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১৩:২২, ২৯ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
নতুন শক্তি অর্জন উত্তর কোরিয়ার, হাই-থ্রাস্ট মিসাইল পরীক্ষা করলেন কিম জং উন

ইরান-ইসরাইল সংঘাতের মধ্যে নিজের শক্তি বাড়িয়েই চলেছে উত্তর কোরিয়ার। নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বাড়ানোর পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। কিম জং উন নিজে উপস্থিত থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সলিড-ফুয়েল ইঞ্জিনের পরীক্ষা তদারকি করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA)-র দাবি, এই পরীক্ষা দেশের কৌশলগত সামরিক শক্তি আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

কেসিএনএ সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই ইঞ্জিনটি কার্বন ফাইবার (carbon fibre) কম্পোজিট উপাদান দিয়ে তৈরি এবং এর সর্বোচ্চ থ্রাস্ট (thrust) ২,৫০০ কিলোটন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের পরীক্ষায় এই ক্ষমতা ছিল প্রায় ১,৯৭১ কিলোটন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এটি নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঞ্জিনের এই ক্ষমতা বাড়ানোর পিছনে মূল লক্ষ্য একাধিক ওয়ারহেড (multiple warheads) বহন করতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সম্ভাবনা বাড়ে। এই পরীক্ষাটি দেশের পাঁচ বছরের সামরিক উন্নয়ন পরিকল্পনার (military development plan) অংশ বলেও জানিয়েছে কেসিএনএ।

এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ‘স্ট্র্যাটেজিক স্ট্রাইক ক্যাপাবিলিটি’ (strategic strike capabilities) বাড়ানো, যা সাধারণত পারমাণবিক অস্ত্রবাহী আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (intercontinental ballistic missile বা ICBM) দিকে ইঙ্গিত করে। উল্লেখযোগ্যভাবে, শেষ কয়েকবছরে উত্তর কোরিয়া একাধিক আইসিবিএম (ICBM) পরীক্ষা চালিয়েছে, যেগুলির পাল্লা মার্কিন মূল ভূখণ্ডে পৌঁছতে সক্ষম বলে দাবি।

সলিড-ফুয়েল প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হল, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে আলাদা করে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয় না, ফলে সেগুলি শনাক্ত করা কঠিন। বিপরীতে, পুরনো লিকুইড-ফুয়েল (liquid-fuel) ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে উৎক্ষেপণের আগে জ্বালানি ভরতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং সহজে নজরে আসে।

তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এখনও কার্যকর আইসিবিএম তৈরির ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে, বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের (reentry) সময় ওয়ারহেডের সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে। যদিও অন্য অংশের বিশেষজ্ঞরা এই মত মানতে নারাজ।

প্রসঙ্গত, কিম জং উন সম্প্রতি সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে উত্তর কোরিয়াকে অপরিবর্তনীয়ভাবে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ (state terrorism) ও আগ্রাসনের অভিযোগও তোলেন তিনি। কিন্তু ইরান-ইজরায়েল সংঘাত চলার মাঝে উত্তর কোরিয়ার চুপ থাকা কূটনীতিকদের অনেককে ভাবিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ কোরিয়ার শক্তি বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা। সূত্র: ডয়চে ভেলে

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত