ইরানকে রুখতে কেন ইউক্রেনকে পাশে টানছে আরব নেতারা? (ভিডিও)
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়তে থাকা ড্রোন ও মিসাইল হামলার হুমকির মুখে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে কাতার ও ইউক্রেন। এই চুক্তির ফলে একে অপরের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই পক্ষ বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রি নাটোভ এবং কাতারের পক্ষে কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জসিম বিন মোহাম্মদ চুক্তিতে সই করেন।
এই চুক্তির ফলে দুই দেশ কেবল প্রযুক্তিগত সহযোগিতাই নয়, বরং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের পথও প্রশস্ত করলো। শুধু ইউক্রেন নয়, গত এক মাসে ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধে যেসব দেশ হামলার শিকার হয়েছে, তাদের নিজেদের ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে চায় ইউক্রেন।
এই লক্ষ্যে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত ২৬ মার্চ জেদ্দায় সৌদি সরকারের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে ইউক্রেন। দুই দেশ একটি ১০ বছর মেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করে। যেখানে মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এরপর ২৮ মার্চ সকালে জেলেনস্কি আবুধাবিতে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে দেখা করেন। সেখানে ইরানের ড্রোন হামলা এবং 'হরমুজ প্রণালি' অবরোধের ফলে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। ইউক্রেন তাদের নিজস্ব ড্রোন প্রতিরক্ষায় বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়।
ইউক্রেন প্রস্তাব দিয়েছে, তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যবহৃত দামি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে নিজেদের তৈরি সাশ্রয়ী ও কার্যকর ইন্টারসেপ্টর ড্রোন সরবরাহ করবে। তবে শুধু প্রযুক্তি সহায়তা নয়, এসব দেশের সাথে লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও জোর দিতে চান ভলোদিমির জেলেনস্কি।
বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তা এবং সময়মতো অস্ত্র না পাওয়ার আশঙ্কায় এই দেশগুলো বিকল্প খুঁজছে।
ইউক্রেন এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ যাদের আধুনিক উচ্চ-প্রযুক্তির ড্রোন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব চুক্তির ফলে, কাতার ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সামরিক বাহিনী এখন প্রথাগত যুদ্ধের বদলে আধুনিক ও সাশ্রয়ী 'হাই-টেক' যুদ্ধের ট্রেনিং পাবে, যা তাদের বাহিনীকে আরও চৌকস করে তুলবে।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/এমএফআর



মন্তব্য করুন: