মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি: কোন দেশে কতজন প্রাণ হারালেন
গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধে প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হামলায় ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০ দিনে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে। নিহতের তালিকা থেকে বাদ যায়নি স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি মেয়েরাও। ইরানের পাল্টা হামলায়ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটি এবং ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে, যুদ্ধের ৪০তম দিনে এসে বুধবার (৮ এপিল) দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরান। কোন দেশে কতজন প্রাণ হারিয়েছেন সে হিসাব প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ইরান: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ’র তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে মোট ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হয়েছেন। তবে, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির হিসাবে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৯০০।
ইসরাইল: ইসরাইলের অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও লেবানন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে অভিযানে ইসরাইলি বাহিনীর ১১ জন সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
লেবানন: দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৫৩০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ১২৯ জন শিশু। দক্ষিণ লেবাননে পৃথক দুই ঘটনায় জাতিসংঘের তিন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন; তারা ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মীরাও রয়েছেন।
ইরাক: সংকট শুরুর পর থেকে ইরাকে অন্তত ১১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুই সেনাসহ মোট ১৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কাতার: ২২ মার্চ কাতারের জলসীমায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন নিহত হন।
কুয়েত: দেশটিতে সাতজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিম তীর (ফিলিস্তিন): ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পশ্চিম তীরে চারজন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।
সিরিয়া: দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সুয়েইদা শহরে একটি ভবনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।
বাহরাইন: ইরানের দুটি পৃথক হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
ওমান: ১৩ মার্চ সোহর প্রদেশের একটি শিল্পাঞ্চলে ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হন।
সৌদি আরব: রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণে দুইজন নিহত হয়েছেন।
ফ্রান্স: উত্তর ইরাকে ড্রোন হামলায় একজন ফরাসি সেনা নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের এই ৪০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: