সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কিছুটা কাটতেই বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কিছুটা কমায় এশিয়ার বাজারে বৃহস্পতিবারও (১৭ সেপ্টেম্বর) অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেলের চালান পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় ৩টা ৪৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ১০ ডলারে নেমে আসে। এর আগে বুধবার উভয় ধরনের তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার করে কমেছিল।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া বলেন, ওমানের মাধ্যমে সৌদি আরব তেলের চালান পাঠাবে—এমন খবর আসার পর সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ বৈঠকের আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে অগ্রগতির প্রত্যাশাও তেলের দাম বৃদ্ধির গতি সীমিত করছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত কয়েকজনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ওমানের সোহর বন্দরসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে আরও বেশি অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিচ্ছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, এ উদ্যোগ তার কিছুটা প্রভাব কমাতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই সরবরাহ সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দর থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার মাত্র একটি অংশই পূরণ করতে পারবে। ফলে তেলের দামের পতনও সীমিত থাকতে পারে।
সাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর রপ্তানি কমে যাওয়ার পুরো ঘাটতি তা পূরণ করতে পারছে না।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম প্রায় চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেল তোলা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ইউরোপের কয়েকটি গ্রাহকের জন্য কিছু চালান বাতিল করা হয়েছে—জাহাজ চলাচল খাতের সূত্রের এমন তথ্যের পর দাম বেড়েছিল।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করার পর সৌদি আরবের তেল রপ্তানির প্রধান পথ হয়ে ওঠে ইয়ানবু। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ শুরু করে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
তেল ও নিরাপত্তা খাতের তিনটি সূত্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, গত সপ্তাহের এক হামলায় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনকে সচল রাখা দুটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো কবে নাগাদ মেরামত করা সম্ভব হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার তেলের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলনের দাবি, বুধবার সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে। এর পর হুথি যোদ্ধারা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিবিএস ব্যাংক তাদের চতুর্থ প্রান্তিকের মূল পূর্বাভাসে ধরে নিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের তীব্রতা কমবে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৯৫ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল হতে পারে।
তবে ডিবিএস ব্যাংকের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুব্রো সরকার বলেন, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে হামলা ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি উঠে যেতে পারে, পরে আবার প্রায় ১০০ ডলারের দিকে নামতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: